রোববার   ২৩ জুন ২০২৪   আষাঢ় ৯ ১৪৩১  

পর্ব-১ : কোরআন পরিচিতি ও নাজিলের ইতিহাস

কুষ্টিয়ার বার্তা

প্রকাশিত : ০১:১৮ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ রোববার

কোরআন মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার পবিত্র বাণী। এ বাণী লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল। তথা হতে সুদীর্ঘ ২৩ বছর ব্যাপী ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) এর মারফত প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্ব নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ওপর নাজিল হয়। তথা হতে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বস্ত সূত্রে আমাদের নিকট পর্যন্ত পৌঁছে। সুতরাং এ কোরআনে কোনো প্রকার সন্দেহ সংশয়ের অবকাশ নেই।

প্রথমে কোরআন গ্রন্থাকারে সংকলিত ছিল না। জালিল কদর কিছু সাহাবায়ে কেরামের স্মৃতিতে এবং কিছু অংশ বিভিন্ন দ্রব্যের যেমন- চামড়া, গাছের পাতা ও পাথরের ওপর লিখিত হয়ে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। 

কোরআনের কোনো আয়াত নাজিল হলে রাসূলুল্লাহ সা.) সঙ্গে সঙ্গে তা নিজে মুখস্থ করতেন এবং তার থেকে শুনে সাহাবায়ে কেরামও মুখস্থ করতেন। আবার রাসূলুল্লাহ (সা.) উক্ত আয়াত নির্দিষ্ট ওহী লেখকদেরকে ডেকে লেখিয়ে রাখতেন। এটাই ছিল কোরআন সংরক্ষণের গৃহীত ব্যবস্থা।

হজরত আবূ বকর (রা.) এর খেলাফতকালে ইয়ামামার যুদ্ধে বহু হাফেজে কোরআন সাহাবি শাহাদাৎ বরণ করেন। ফলে কোরআন শরিফ বিলুপ্ত হয়ে পড়ার প্রবল আশংকায় তা সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ওহী লেখক সাহাবি হজরত যায়েদ বিন সাবেত (রা.) এর ওপর কোরআন শরিফ লেখার দায়িত্ব অর্পণ করেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামের মুখস্থকৃত এবং বিভিন্ন দ্রব্যাদিতে এবং লিখিত অংশগুলো মিলিয়ে কোরআন শরিফ গ্রন্থাকারে একত্রিত করেন। প্রথমে এ কপি হজরত ওমর ফারুক (রা.) এর নিকট রাখা হয়। তার ইন্তেকালের সময় তিনি এ কপি তার কন্যা উম্মুল মুমিনীন হজরত হাফসা (রা) এর নিকট হস্তান্তর করেন।

তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমান (রা.) এর আমলে ইসলাম ও ইসলামি সাম্রাজ্য বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। ফলে কোরআনের শিখন ও তেলাওয়াতে অনারব ভাষার উচ্চারণের প্রভাব পরিলক্ষিত হতে থাকে। সাহাবি হজরত হোযায়ফা (রা.) প্রথম এ বিষয়ে খলীফা হজরত ওসমান (রা) এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি এর সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়ার কথা সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনায় সিদ্ধান্তক্রমে হজরত যায়েদ বিন সাবেত (রা.) এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে কোরআন পুনঃ তৈরি করতে হবে যাতে কোরাইশের উচ্চারণ রীতি বহাল থাকে। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোরাইশী ছিলেন। তারা কোরআনের ৬টি কপি সংকলন করেন এবং হজরত ওসমান (রা). এক কপি নিজের কাছে রেখে বাকী একেক কপি প্রত্যেক রাজধানী শহরে পাঠিয়ে দেন, যাতে প্রেরিত কপির সঙ্গে মিলিয়ে সবাই নির্ভুলভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারে।

সংকলিত এ কপিসমূহ নির্ভুল নির্ভরযোগ্য বলে অদ্যাবধি সমগ্র উম্মত মেনে নিয়েছে। হযরত ওসমান (রা.) এর খেলাফত আমলে তার তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতকৃত সংকলন অদ্যাবধি সমগ্র দুনিয়ায় পঠিত হচ্ছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত কোনো প্রকার পরিবর্তন পরিবর্ধন ছাড়াই পঠিত হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ! চলবে...