বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৯   ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তিতে আসন সংকট হবে না : শিক্ষামন্ত্রী জামানত নয়, কৃষিঋণে কৃষকের এনআইডি যথেষ্ট: কৃষিসচিব নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকানো চুয়াডাঙ্গার শ্রাবন্তী জিপিএ-৫ পেয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা কুষ্টিয়ার এক উপজেলাতেই ২৮টি অবৈধ ইটভাটা!
২৮৫

১০ অক্টোবর দৃষ্টিনন্দন ‘কালনা সেতু’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২২  

নড়াইল জেলার সীমান্তের কালনা পয়েন্টে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ৬ লেনের দৃষ্টিনন্দন ‘কালনা সেতু’। মধুমতি নদীর উপর নির্মিত বিধায় অনেকে এটা মধুমতি সেতু নামেও অভিহিত করছেন। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর এখন এই ঐতিহাসিক সেতুটির দ্বার উন্মোচনের অপেক্ষা চলছে। আর এই অপেক্ষা শেষ হবে আগামী ১০ অক্টোবর।

কেননা ওইদিন থেকেই সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হবে। কিন্তু এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন দেশের প্রথম ৬ লেনের কালনা সেতু। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক শ্যামল ভট্টাচার্য্য।

ওই কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি একই সঙ্গে উদ্বোধন করবেন কালনা মধুমতী সেতু ও নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা সেতু। উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত হলেও  সময় এখনও ঠিক হয়নি।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কালনা সেতু পরিদর্শনে আসেন। সেদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতু মন্ত্রী বলেছিলেন, অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি উদ্বোধন করবেন, তারিখ নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। 

গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যশোর ও নড়াইলসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে কালনা সেতু নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। পদ্মা সেতু পার হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রবেশদ্বার হবে কালনা সেতু। এ অঞ্চলের মানুষ ওই সেতু উদ্বোধনের প্রহর গুনছে। 

দৃষ্টিনন্দন এ সেতু  দেশের প্রথম ৬ লেনের সেতু। মধুমতী নদীর কালনা পয়েন্টে এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুর পূর্ব পারে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা শংকরপাশা ও পশ্চিম পারে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা কলনা। শংকরপাশা  গোপালগগঞ্জ জেলা সীমান্তের গ্রাম। আর কালনা নড়াইল জেলা সীমন্তের গ্রাম। দু’ জেলার সীমান্তে নির্মিত সেতু ঢাকার সাথে অন্তত ১০ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করে দেবে।

ইতি মধ্যে মূল সেতু ও সংযোগ সড়কের সব কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর অর্ধেক অংশে ল্যাম্পপোস্ট বসানো শেষ হয়েছে। টোল প্লাজার আটটি বুথ করা হয়েছে, সেখানে যন্ত্রপাতি বসানোর প্রস্তুতি চলছে। সেতু এলাকায় চলছে নদী শাসনের কাজ।

কালনা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, সেতুতে ল্যাম্পপোস্ট দুই-তিনদিনের মধ্যেই বসানো শেষ হবে। টোল প্লাজার সব কাজ উদ্বোধনের আগেই শেষ হবে। গাড়ি চলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তত সেতুটি। নদী শাসনের কাজ পর্যায়ক্রমে করা হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ সেতু নির্মিত হয়েছে। জাপানের টেককেন করপোরেশন ও ওয়াইবিসি এবং বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড যৌথভাবে এ সেতুর ঠিকাদার।

এ সেতু চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১০ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এই সেতু বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকার দূরত্ব কমবে ১৩০ কিলোমিটার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে সেতুর কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছিলেন।

সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, সেতুর মাঝখানে বসানো হয়েছে ১৫০ মিটার দীর্ঘ স্টিলের স্প্যান। নেলসন লোস আর্চ টাইপের (ধনুকের মতো বাঁকা) এ স্প্যানটি তৈরি হয়েছে ভিয়েতনামে। ওই স্প্যানের উভয় পাশের অন্য স্প্যানগুলো পিসি গার্ডারের (কংক্রিট)।

ছয় লেনের এ সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির ও দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার ও প্রস্থ ২৭ দশমিক ১০ মিটার। উভয় পাশে সংযোগ সড়ক ৪ দশমিক ২৭৩ কিলোমিটার, যার প্রস্থ ৩০ দশমিক ৫০ মিটার। সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হবে ৯৫৯ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা। 

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর