রোববার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৩   মাঘ ১৬ ১৪২৯   ০৭ রজব ১৪৪৪

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফাইনাল রাউন্ডে ব্রাজিল
৩৮

চীনের ভূমিকা নিয়ে দিল্লিতে লাল পতাকা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২২  

বাংলাদেশ ও নেপালের কয়েকটি প্রকল্পে চীনের ভূমিকা ও আগ্রহ নিয়ে ভারতে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে থাকা চীনের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি ভারতের নাম না করে জানিয়েছেন, বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্পের সঙ্গে সংবেদনশীল কিছু বিষয় রয়েছে। তবু চীন এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে রাজি। বাংলাদেশে যদি এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে চীন অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। সেখানে চীন তার নৌবহর নামাবে বলেও খবর আছে। আবার নেপালে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার প্রকল্পেও চীন ভূমিকা নিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে- বাংলাদেশ নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশে একের পর এক কাজ হাতে নিয়ে কি চীন গোপনে নজর রাখতে চাইছে ভারতের ওপর?

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্প্রতি কাঠমান্ডু-তরাই মাধেশ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য চীনের ফার্স্ট হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং

কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে নেপাল সেনাবাহিনী প্রায় ১৫শ কোটির একটি চুক্তি করে। তবে গত রবিবার নেপালের সুপ্রিমকোর্ট এ সংক্রান্ত একটি উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সব পক্ষকে নিয়ে মঙ্গলবার আলোচনায় বসতে হবে। ওই প্রকল্পের টেন্ডারে ভারতের আফকন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডও অংশ নিয়েছিল। তারা এ নিয়ে নেপালের আদালতে আবেদন করে। কিন্তু টেন্ডার পায় চীনের প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কাঠমান্ডু-তরাই মাধেশ এক্সপ্রেসওয়ের এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কতটা স্বচ্ছতা রয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এই প্রকল্পের একাংশ ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি। তাই এটি ভারতের জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রেও সংবেদনশীল।

অন্যদিকে কয়েক মাস আগে থেকে বাংলাদেশে তিস্তা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে বড় ভূমিকা নিতে চাইছে চীন। বাংলাদেশ সরকারেরও এ নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তিস্তার পানিবণ্টন সংক্রান্ত একটি চুক্তি এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি। সে কারণে তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশ কিছুটা অপেক্ষা করতে চাইছে। কিন্তু তিস্তা ঘিরে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের যেন আর তর সইছে না। যদিও এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে চীনের কোনো সম্পৃক্ততা ভারতের পক্ষে ভালো হবে না বলেই মনে করছে দিল্লি।

এদিকে দুটি ইয়াং ওয়াং পর্যায়ভুক্ত জাহাজ ইতোমধ্যে ভারত মহাসাগরে নামিয়ে দিয়েছে চীন, যা স্যাটেলাইট ও যে কোনো ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম। এই দুটি জাহাজ এমন এক সময়ে চীন নামিয়েছে, যখন চলতি মাসেই ওই অঞ্চলে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা রয়েছে। এ ছাড়া গত আগস্টের মাঝামাঝিতে শ্রীলংকার হাম্বানটোটা বন্দরে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ইউয়ান ওয়াং-৫ পাঠিয়েছে বেইজিং। এরই মধ্যে ভারত শ্রীলংকায় চীনের যুদ্ধজাহাজ প্রেরণ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, দেশটি এসব করছে ভারতের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ ও নেপালে কাজ করার জন্য চীনের বিশেষ ইচ্ছা।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো সমির পাতিল বলেন, গত কয়েক বছরে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোয় চীনা বিনিয়োগ সন্দেহের সৃষ্টি করছিল। একই কাজে নতুন এই পদক্ষেপগুলো বেইজিংয়ের কিছু হারানো জায়গা ফিরে পাওয়ার জন্য নতুন করে চাপের ইঙ্গিত দেয়। যদিও ভারত এই পদক্ষেপগুলো মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছে। তার পরও দিল্লিকে চীনের এসব উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দিকে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখতে হবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর