মঙ্গলবার   ১৭ মে ২০২২   জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৯   ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া ডাক্তারকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার টন এবার হজ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেল ৭৮০ এজেন্সি আগামী দুই বছরের মধ্যে পৃথিবী হবে ডাটানির্ভর ডিজিটালের পরবর্তী পদক্ষেপ স্মার্ট বাংলাদেশ
১৪০৩

কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্য গোলাঘর

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ মে ২০১৯  

চুয়াডাঙ্গার গ্রাম থেকে কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর। গোলাঘর এখন আর চোখে পড়ে না। ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ জেলার প্রত্যেকটি বাড়িতে এক সময় চোখে পড়তো ধানের গোলা। তবে কালের বিবর্তনে এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না ধানের গোলাঘর।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খাড়াগোদা গ্রামের নস্কর আলী (৭০) জানান, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে চুয়াডাঙ্গায় ইরি-বোরো চাষ শুরু হয়। এর আগে, জেলার বিলগুলো ছিল এক ফসলি। আমন ছাড়া আর কোনো ধান হতো না। তবে উঁচু জমিতে আঊশ ধান হতো। তখন মানুষের পুকুর ভরা মাছ, গোলাভরা ধান আর গোয়ালভরা গরু ছিল। এখন সেই বিলগুলোতে ধরনের ফসল ফলে। আমনের পর ইরি-বোরো। বোরো ধান কাটার পর আমন রোপণের আগে আরও একবার ফসল ফলায় অনেকে। কিন্তু সেই গোলাঘর আর নেই।

জীবননগর উপজেলা ইউনিয়নের শ্যামকুর গ্রামের মোবারক মণ্ডল জানান, আগে গোলাঘরের সংখ্যা দেখে মানুষ ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতেন। যার বাড়িতে যত বেশি গোলাঘর ছিল তিনি ততবেশি অভিজাত ছিলেন। গোলাঘর ছিল আভিজাত্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক। একেকটি গোলায় ৬০ থেকে ১৫০ বস্তা (১ বস্তায় ৬০ কেজি) ধান রাখা যেত।

তিনি আরও জানান, গোলাঘরে শুধু ধান নয়, ডাল, গম, সুপারিসহ বিভিন্ন ফসল রাখা হতো। জমিদার বাড়িতে সারি সারি ভাবে সাজানো ছিল গোলাঘর। সেই জমিদারি আর নেই। তবে কালের সাক্ষী হয়ে আজও আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর দেখা যায় দু’একজনের বাড়িতে। বাঁশের চটা, বেত আর কাতা (নারিকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি সুতা) দিয়ে তৈরি গোলাকৃতির এ ঘর গোলপাতা, নাড়া (ধানগাছ) ও টিন দিয়ে ছাওয়া হতো।

চুয়াডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ডিঙ্গেদহ ফুলবাড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মিয়াজান আলী জানান, এখন মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে মানুষ ধানের গোলায় ধান রাখে না। ইট পাথরের তৈরি গুদামে রাখে ধান-চালসহ অন্যান্য পণ্য। যে কারণে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর। এ গুলো সংরক্ষণ করা না গেলে আগামী প্রজন্ম গোলাঘর দেখতে জাদুঘরে ছুটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর