শনিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৯   ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
বিজয়ের মাসকে ‘মুক্তিযোদ্ধা মাস’ ঘোষণার দাবি দেশে করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে বিদ্যুতের তার মাটির নিচে যাবে সারা দেশে পুলিশের পক্ষকালব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু কুষ্টিয়ায় খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি ঢাকায় অগ্নিসন্ত্রাসীদের বিশৃঙ্খলার লাইসেন্স দেয়া হবে না পদ্মা সেতুর সুফল পেতে শিল্পকারখানার প্রত্যাশা
৭৩

গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করছে পারিবারিক পুষ্টি বাগান

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২২  

পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগানের ধারণা বদলে দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য গ্রামীণ নারীর ভাগ্য। তারা নতুন এ পদ্ধতিতে নিজের বাড়ীর আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের তরিতরকারি, শাক ও ফলমূল উৎপাদন করে পরিবারের পুষ্টিচাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি  রোজগার করছে।

যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-মাগুরা-মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের নারীরা বসত ভিটার উঠোন ও পরিত্যাক্ত জায়গায় সব্জি ও ফল চাষ করে আর্থিকভাবেও হচ্ছেন স্বাবলম্বী।

নারীরা জানাচ্ছেন নতুন এই পদ্ধতিতে সবজি বাগান করার কারণে তার পরিবারের দৈনিক সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বাড়তি আয়ও হয়েছে।  

যশোরের রাহিমা খাতুন বলেন, “আগে তরকারি কিনে খাওয়ার পয়সা ছিল না। এছাড়া তরিতরকারির যে দাম, তাতে প্রতিদিন তরকারি কিনে খাওয়া সম্ভব হতো না। কিন্তু নিজে সবজি চাষের কারণে এখন নিজেরা খেতেও পারছি, আবার বাড়তি সবজি বাজারে বিক্রি করতে পারছি”। 

এই চাষে তেমন কোন খরচ নেই, শুধুমাত্র শারিরিক পরিশ্রম করতে হয়। তবে নিয়মিত পরিচর্যা করলে, একই বাগান থেকে সারাবছর নিজেদের প্রয়োজনীয় সবজির চাহিদা মেটানো সম্ভব বললেন গৃহবধু উম্মে কুলসুম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ৪৩৮ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯২টি উপজেলায় তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি নিয়ে মণিরামপুরের গৃহবধূ আসমা আক্তার জানান “কোন রকম কীটনাশক ব্যবহার না করে, শুধুমাত্র ভার্মি কম্পোষ্ট সার ও জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি অবলম্বন করে এই পুষ্টি বাগান প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি লাউ, মিষ্টিকুমড়া, কলমিশাক, লালশাক, বেগুন ও কাঁচামরিচ আবাদ করেছেন। কোন সবজি তাকে বাজার থেকে কিনতে হয় না। বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় পাঁচটি বেড স্থাপনের মাধ্যমে তিনি প্রয়োজনীয় সকল সবজির চাষাবাদ করছেন।” 

নিজের পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ করে গ্রামের অন্যান্যদের এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের মাঝেও সবজি বিতরণ করছেন বলে জানান নাসরিন বেগম। প্রকল্পটি কিভাবে মহিলাদের আর্থিকভাবে লাভবান করছে, সে প্রসঙ্গে নাসরিন বলেন, দৈনিক তিনি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ৩০০-৪০০ টাকার সবজি বাজারে বিক্রি করছেন। আগে স্বামীর কাছে প্রয়োজনে টাকা চাইতে হতো, কিন্তু এ প্রকল্প গ্রহণের পর তাকে আর স্বামীর কাছে কোন টাকা পয়সা চাইতে হয় না।

সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয় এবং এটি ২০২৩ সালে ডিসেম্বরে শেষ হবার কথা রয়েছে। তবে প্রকল্পটির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ আকরাম হোসেন চৌধুরী জাতীয় বার্তা সংস্থা বলেন, “প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনাবাদি পতিত ও অব্যাবহৃত বসতবাড়ি চাষের আওতায় আনা ও বছরব্যাপী ৫ লক্ষ ৩ হাজার ১৬০ টি কৃষক পরিবারের পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন করাই এর লক্ষ্য।”

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর