মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২   আষাঢ় ১৩ ১৪২৯   ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
কুষ্টিয়ায় বেড়েছে পাটের চাষ ৫ ঘণ্টায় মেহেরপুরের সবজি কাওয়ানবাজারে জনগণের ভাগ্য বদলই একমাত্র লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুতে চলছে সেনাবাহিনীর টহল কোরবানি উপলক্ষে প্রস্তুত মেহেরপুরের খামারিরা ছুটি শুরুর দু’দিন আগেই হল ত্যাগের নির্দেশ
২২৬০

মেহেরপুরে জমে উঠেছে ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের হাট

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০১৯  

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্লাক বেঙ্গল গট (কালো ছাগল) কিনতে প্রতিবারের মতো এবারও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে মেহেরপুরের ছাগলের হাটগুলোতে।

স্বাদে-গুণে ভালো হওয়ায় এই ছাগলের কদর বাড়ছে দিন দিন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা মেহেরপুরের ব্লাক বেঙ্গল ছাগল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন।

ব্যবসায়ীরা জানালেন, দাম নাগালের মধ্যে থাকায় এবার এই ছাগলের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি তারাও বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

মেহেরপুর জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা জানান, জেলার চাহিদা মিটিয়ে এবার মেহেরপুর থেকে প্রায় দুই লাখ ছাগল কোরবানিতে অন্যত্র বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এই জেলার পথেপ্রান্তরে ঘুরলে ছাগলের বিচরণ চোখে পড়ার মতো। যানবহন চলাচলের প্রধান অন্তরায় হয় ছাগল।

সরেজমিন মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী এবং শ্যামপুর ছাগলের হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল জায়গাজুড়ে কালো ও ধুসর রঙের শুধুই ছাগল আর ছাগল। মাথায় শিংহীন মাঝারি আকারের ছাগলের সংখ্যায় বেশি। অত্যন্ত শান্ত-স্বভাবের এবং পরিচ্ছন্ন ঝকঝকে ছাগলগুলোর ডাকচিৎকারও কম। এ কারণে ৫০ ছাগলের দড়ির বাঁধন নিয়ন্ত্রণ করছেন একজনই।

শত শত বেপারি বাইরে থেকে ছাগল কিনতে গেছেন। তারা ঘোরাফেরা করছেন। দরদাম করছেন। ছাগল পছন্দ করছেন। দামে-পছন্দে মিলে গেলে গাড়িবোঝাই করে ছাগল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দূর জেলায়। নগদ কেনাবেচা। কোনো ঝক্কিঝামেলা নেই বললেন ক্রেতা বিক্রেতারা।

সপ্তাহে তিন দিন হয় এ সমস্ত হাট। একই চিত্র দেখা গেল- গাংনী উপজেলার বামুন্দী পশুহাটে।

ছাগল মালিক মেহেরপুর সদর উপজেলার শালিকা গ্রামের বাহারাইন শেখ (৪৮) জানান, এবার ২০টা ছাগল বিক্রি করবেন হাটে। ছাগল পালন এবং বিক্রি তিনি প্রতি ঈদেই করেন। বর্তমান বাজার দরে ছাগল বিক্রি হলে তিনি প্রতি ছাগলে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লাভ হবে বললেন। মাঝারি সাইজের ছাগলের দিকে ঝোঁক ক্রেতাদের।

ঢাকা আজিমপুরের ছাগল বেপারী সারোয়ার মাতুব্বর (৫৬) জানান, এই জেলার ছাগলের মাংসের স্বাদ এবং গন্ধ একেবারেই ভিন্ন। তাই চাহিদাও বেশি। লাভও ভালো হয়। এবার ব্লাক বেঙ্গল জাতের সহস্রাধিক ছাগল কেনার ইচ্ছে রয়েছে বলে জানালেন।

বারাদী হাটের ইজারাদার ইস্রাফিল হোসেন (৫৫) জানান, ঈদ সামনে রেখে ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে হাট। শুধু এই হাট থেকেই এবার ৬০ হাজার ছাগল বিক্রির টার্গেট রয়েছে। প্রতি হাটে তিন হাজার ছাগল বিক্রি হয়।

মেহেরপুর জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) তৌফিকুল ইসলাম জানান, ব্লাক বেঙ্গল জাতের কালো জাতের ছাগলের মাংস যেমন সুস্বাদু, তেমনি এই ছাগলের চামড়া ও হাড় হয় খুবই উন্নতমানের। চামড়া দিয়ে ব্যবহার্য দামি পণ্য তৈরি হয়। তাই চামড়াও বিক্রি হয় চড়া দামে। খাদ্য হিসেবে নেপিয়ার ঘাস, ধান গমের গুঁড়ো, কাঁঠালপাতা ছাড়া খারাপ ও নোংরা কোনো খাবার খায় না। উঁচু ও শুষ্ক অঞ্চল হওয়ায় এবং খাদ্যের সহজলভ্যতার কারণে এই জেলায় ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল উৎপাদন বেশি হয়। এই জেলার সবচাইতে বড় বারাদি ছাগল হাট। ছোটবড় মিলিয়ে ২৭টি ছাগলের হাট রয়েছে এ জেলায়।

এ কর্মকর্তা আরও  জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ২ লাখ ছাগল বিক্রির প্রস্তুতি পালনকারীদের। নিম্নে ৬ থেকে ২০ হাজার আবার ঊর্ধ্বে ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা দামেরও ছাগল পাওয়া যায় এ সমস্ত হাটে। দেশি জাতের ছাগলসহ ভারত ও চীনের হাইব্রিড ছাগলের আমদানিও হয় হাটে। তবে, এই জেলার ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর