রোববার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৩   মাঘ ১৬ ১৪২৯   ০৭ রজব ১৪৪৪

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফাইনাল রাউন্ডে ব্রাজিল
২০৮৩

মেহেরপুরে চাষ হচ্ছে বারোমাসি আম কাঠিমন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২২  

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি মাঠে চাষ হচ্ছে কাঠিমন আম। সুমিষ্ট বারোমাসি এ আম থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা। অসময়ে উৎপাদিত এ আমের চাদিহা ও দাম বেশি হওয়ায় লাভের আশা করতে শুরু করেছেন বাগানি মঈন উল আলম ওরফে বুলবুল। এখন তার দেখাদেখি অনেকেই এই আমের বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের মঈন উল আলম ওরফে বুলবুল পেশায় এনজিও কর্মকর্তা। গত বছর নিজের ২ বিঘা ৫ কাঠা জমিতে প্রায় ২৪০টি কাঠিমন জাতের আমের চারা রোপণ করেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। এক বছর যেতে না যেতেই তার কিছু গাছে মুকুল আসতে শুরু করে। পাশাপাশি কিছু গাছে কাঁচা-পাকা আম ঝুলতে দেখা গেছে।

আম বাগানি বুলবুল বলেন, ‘এ বছর আমার বাগানের প্রতিটি গাছে মুকুল এসেছে। অনেক গাছেই আম ধরেছে। প্রতিটি আমের ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম হবে। কয়েক দিন আগেই বাগান থেকে এক মণ আম তুলেছি। প্রতিকেজি ২৫০ টাকা দরে ঢাকার এক ব্যবসায়ী কিনে নিয়ে গেছেন।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বছর বাগান পরিচর্যা ও গাছে সার দিতে বিঘা প্রতি ১০ হাজার টাকা করে খরচ হবে। আমি মনে করি আগামী দিনগুলোতে এ বাগানে আমের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে, এতে লাভ বেশি হবে।’

মেহেরপুর জেলা ক্যাবের সভাপতি রফিক উল আলম বলেন, ‘সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরা কাঠিমন আম। অসময়ের এ আমের চাহিদা ও দামও বেশি। কাঠিমন আম চাষ করে মেহেরপুর জেলার কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারে। মেহেরপুর জেলার মাটি সবজি আর আম বাগানের জন্য উপযুক্ত। তাই আমি মনে করছি স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে এ জেলার কৃষকরা বেশি বেশি কাঠিমন আমের বাগান করবেন।’

মেহেরপুর সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের রামিজ আহসান বলেন, ‘লোক মুখে শুনে এ আমের বাগান দেখতে এসেছি। নতুন এ বাগানটিতে ঝুলে থাকা আম আর মুকুল দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। চারা সংগ্রহ করে আমি আগামী বছরে দুই বিঘা জমিতে এ আমের চাষ করব।’ 

সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আদালত হোসেন জানান, তিনি তার ৩ বিঘা জমিতে এ আমের চাষ করবেন।

মেহেরপুর সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘কাঠিমন আমের বাগান করার প্রথম ৩ বছর সাথী ফসল চাষ বাধ্যতামূলক। ওই সাথী ফসল বিক্রির টাকা থেকে বাগান করার খরচ, পরিচর্যা ও সার কেনার খরচ মিটবে। এছাড়া সিজিনাল আমের সময় কাঠিমন গাছে মুকুল আসলে তা কেটে দেওয়াই ভালো হবে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘অসময়ের উৎপাদিত কাঠিমন আম ফলের চাহিদা পূরণ করবে। জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে পাশাপাশি আমচাষিও লাভবান হবেন। আমরা এ আম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। একই সঙ্গে রোগ বালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।’

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর