শুক্রবার   ০৭ অক্টোবর ২০২২   আশ্বিন ২২ ১৪২৯   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
দেশের পাহাড়ী এলাকায় কফি চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে শুরু হয়েছে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল সাজেকে পর্যটকের ধুম, কোনো রুম ফাঁকা নেই ভোক্তা পর্যায়ে এখনই বাড়ছে না বিদ্যুতের দাম দলে যাগ দিয়েছেন সাকিব, নিউজিল্যান্ডে পরিপূর্ণ টিম কুষ্টিয়ায় প্রবীণদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ
২৫৩০

বিলুপ্তির পথে কুমারখালীর তাঁত শিল্প!

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০১৯  

কুষ্টিয়া কুমারখালী ঐতিহ্য তাঁত শিল্পের শ্রমিকরা চরম দুর্দিনে মধ্যে রয়েছেন। তাঁত মালিকরা অর্থনৈতিক সঙ্কট, কাঁচামালের অভাব ও নানান প্রতিকূলতার কারণে জেলার এককালের প্রসিদ্ধ এই তাঁত শিল্প বিলুপ্ত হতে চলেছে। ফলে এ শিল্পের সাথে জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক এখন বেকার হয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।

জানা যায়, ক্রমাগত লোকসান, প্রয়োজনীয় পুঁজি, সুষ্ঠু নীতিমালার অভাব, চোরাই পথে আসা ভারতীয় কাপড়ে সয়লাব আর দফায় দফায় কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চরম দুর্দিনে রয়েছেন তাঁত শ্রমিকরা। এছাড়াও কাপড়ের রং, কেমিক্যাল ও সুতার মূল্য বৃদ্ধির কারণে তাঁতের তৈরি কাপড়ের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। মেশিনের তৈরি নানাবিধ পণ্যসামগ্রী বাজারে আসায় দেশীয় তৈরি কাপড়ের চাহিদা একেবারেই কমে গেছে। ফলে একরকম দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন এ পেশার সাথে জড়িত শ্রমিকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালের বিবর্তনে বর্তমানে সেখানে এখন নিঃশব্দের আবাদ। মাঝে মাঝে কয়েকটি তাঁত কল চললেও আগের মতো আর তাদের তাঁতে সুর ওঠেনা। পেটের দায়ে পূর্বপুরুষের এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। 

তাতিরা জানান, তাঁত শিল্প নগরী খ্যাত কুষ্টিয়ার কুমারখালী, খোকসা ও মিরপুর, পানস , লাঙ্গল বাঁধ উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজারেরও অধিক তাঁতী ছিল। এরমধ্যে খটখটি তাঁত ১৪ হাজার হস্তচালিত পিটলং তাঁত ৪৪ হাজার ও বিদ্যুৎ চালিত ২০ হাজার তাত কারখানা ছিলো। এসব তাতে প্রতি বছর ২শ’ ৬০ কোটি টাকা মূল্যের কাপড় তৈরি হত। 

তারা আরো জানান, এক সময় এ জেলায় বস্ত্রশিল্পের বার্ষিক আয় ছিল ৩শ’ কোটি টাকার উপরে। দেশের মোটা কাপড়ের চাহিদার ৬৩ ভাগ পূরণ করতো কুষ্টিয়ার তাঁতীরা। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ তাঁত কাপড়ের ছিল ব্যাপক চাহিদা। বর্তমানে এ চাহিদা কমে ৩৫ ভাগে নেমে এসেছে। সব কিছুর দাম বাড়লেও আশানুরূপ তাঁতবস্ত্রের কোন দাম না বাড়ায় কুষ্টিয়ার ১ লাখ ১৪ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ৫০ হাজার তাঁত শ্রমিক পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। এখনও পুরাতন পেশা হিসেবে এ পেশায় টিকে আছেন মাত্র কয়েক হাজার তাঁতই।

এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ এ পেশার সাথে জড়িত আছেন তারা। তাই ভালবাসার টানে হাতেগোনা কিছু তাঁত শিল্পে এখনো টিকে আছে। এ কাজ করেই সংসার চলে কুমারখালীর তাঁতীদের । এই তাঁত শিল্প কে বাঁচাতে হলে অবশ্যই কারিগরদের দিকে তাকাতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। এ শিল্পে ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম কমালে ও তাঁত বস্ত্র বিক্রির সমাধানে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তাঁতীরা ফিরে পাবে তাদের হারানো ঐতিহ্য।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর