বুধবার   ২৯ জুন ২০২২   আষাঢ় ১৪ ১৪২৯   ২৯ জ্বিলকদ ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
মাগুরার কৃষকদের বিনামূল্যে আমন ধানের উপকরণ বিতরণ ‘যুদ্ধ করতে প্রস্তুত’ সৈন্যের সংখ্যা দশগুণ বাড়াচ্ছে ন্যাটো মেহেরপুরে আবারো বাড়ছে অ্যানথ্রাক্স রোগীর সংখ্যা ইবিতে ফাজিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ এসআই নিয়োগের ফল প্রকাশ, সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৭৫ জন ’৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়তে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রতিমন্ত্রী
২২৮২৫

মেহেরপুরে কাঁঠালের বাম্পার ফলন, পৃষ্ঠপোষকতা চান চাষিরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২২  

জাতীয় ফল হিসেবে সবার কাছে সমাদৃত কাঁঠাল। এটি শুধু পুষ্টিগুণে ভরপুর ফলই নয়, অর্থকরী ফল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। আবার কাঁঠালকাঠের তৈরি আসবাবের কদর দেশজুড়ে। কাঁঠাল সুমিষ্ট গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে বাংলাদেশের সর্বত্র পরিদৃষ্ট হয়।

তেমনিভাবে মেহেরপুরের সর্বত্র ছেয়ে আছে কাঁঠাল। কোনো কোনো এলাকায় আগাম জাতের কাঁঠাল পাকতেও শুরু করেছে। কাঁঠালের ম-ম গন্ধে এখানকার চারপাশ এখন মুখরিত।

তবে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণের উন্নত কোনো সুবিধা না থাকায় এ এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় এ ফল নিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাঁঠাল গাছগুলো ভরে গেছে ফলে ফলে। প্রতিটি গাছে ১০০ থেকে ২০০ পর্যন্ত ফল ধরেছে। বছর দশেক আগেও আম-কাঁঠালের বাগান ছিল এ এলাকায়। এখন শুধু আমের বাগানই দেখা যায়। আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হচ্ছে কাঁঠালগাছ। তাই বাগানের সংখ্যাও হাতে গোনা।

এখন বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, স্কুল-কলেজ চত্বরে প্রচুর কাঁঠালগাছের দেখা মেলে। কারণ অভাবের কারণে অনেকেই কাঁঠালগাছ বিক্রি দিচ্ছেন। আসবাব প্রস্তুকারী ও ব্যবসায়ীরা নামমাত্র দাম দিয়ে কিনে ফায়দা লুটছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সদর উপজেলার বুরিপোটা ইউনিয়নের কাঁঠালগাছের মালিক মখলেচুর রহমান জানান, একসময় কাঁঠালের অনেক কদর ছিল। শ্রমিকদের মজুরি হিসেবে দেওয়া হতো। একটি কাঁঠালের বিনিময়ে একজন শ্রমিক তার গৃহস্থের সারা দিন কাজ করে দিতেন। এখন কাঁঠালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়অয় এসব দৃশ্য দেখ যায় না।

কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা আবদুল হামিদ জানান, হাটবাজারগুলোতে পাকা কাঁঠাল উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই প্রতিবছর এক থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকার কাঁঠাল বিক্রি করেন। দুই থেকে তিন মাস কাঁঠালের ভরা মৌসুম থাকে। এ সময় পাইকার ও শ্রমিকশ্রেণির লোকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়।

এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাঁঠালের ফলনও ভালো হয়েছে। গত বছরে কাঁঠাল কম ধরেছিল। তাই দাম একটু বেশি ছিল। এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন বেশি হয়েছে। তাই অনেক কম দামে কাঁঠাল পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

তবে মেহেরপুরের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অন্যান্য ফল ও গাছ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যত তৎপরতা লক্ষ করা যায়, কাঁঠাল নিয়ে তার সিকি ভাগও হয় না। অথচ কাঁঠাল একটি অর্থকরী ফসল ও জাতীয় ফল। কোনো পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় ও অবাধে কাঁঠালগাছ নিধন হওয়ায় জেলায় কাঁঠালবাগানের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এখন বাড়ির আঙিনা বা রাস্তার ধারে গিয়ে ঠেকেছে গাছ। সরকার একটু নজর দিলে অনেকেই কাঁঠাল-বাগানে উদ্বুদ্ধ হতো।

কাঁঠালের গুণাগুণ ও পুষ্টিগুণ নিয়ে পুষ্টিবিদ ডা. জান্নাতুন নেছা বলেন, কাঁঠাল একটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধশালী ফল। একটি কাঁঠালে পৃথক কয়েক প্রকার ভিটামিন ও পুষ্টি রয়েছে। পাকা কাঁঠাল ও তরকারি হিসেবে কাঁঠাল খেলে আলাদা ভিটামিন পাওয়া যায়। কাঁঠালের বিচিতে পর্যাপ্ত পুষ্টি রয়েছে। তা ছাড়া কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে কাঁঠাল হয়ে থাকে। প্রতিটি মৌসুমেই মানুষকে পর্যাপ্ত কাঁঠাল খাওয়া উচিত। কারণ কাঁঠাল একটি রোগ প্রতিরোধক খাবার বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামসুল আলম জানান, মেহেরপুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিক কাঁঠাল-বাগান নেই। বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার দুই পাশে ২০০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালগাছ রয়েছে। এসব গাছে ১০ হাজার টন কাঁঠাল প্রতিবছর উৎপাদন হয়। জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন গাছমালিক ও ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও জানান, এলাকায় কোনো কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা তাদের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত ব্যবস্থা গড়ে তুললে এ উপজেলার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে আরও উপকৃত হবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর