রোববার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৩   মাঘ ১৬ ১৪২৯   ০৭ রজব ১৪৪৪

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফাইনাল রাউন্ডে ব্রাজিল
১৯৭৪

নির্বাচনের মাঠে লাল কার্ড পেলেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০১৮  

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নিম্ন আদালতে দুই বছরের বেশি সাজা হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের এমন রায়ের পর বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্ক থাকছে না বলেও জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুনীর্তি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এরইমধ্যে পৃথকভাবে গণমাধ্যমে এ বিষয়ে তাদের মন্তব্য জানিয়েছেন।

দুর্নীতির দায়ে বিচারিক আদালতের দেয়া দণ্ড ও সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্স) স্থগিত চেয়ে বিএনপির পাঁচ নেতার করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়ে দণ্ডিত ব্যক্তির নির্বাচনের অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত দেন আদালত। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর প্রেক্ষিতে দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথও বন্ধ হয়ে গেলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ সংক্রান্ত একটি পর্যবেক্ষণে আদালত বলছে, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ)নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারো দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে, সেটার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে তাকে জামিন দেন।

এদিকে আদালতের এ সিদ্ধান্তের পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এজন্য তাকে অবশ্যই মুক্তির পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

মাহবুবে আলম বলেন, এটি সাংবিধানিক বিধিবিধান। যে কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিংবা সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে থাকতে পারবে না, যদি কিনা ওই ব্যক্তি ২ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হন এবং মুক্তিলাভের পর ৫ বছর সময় অতিবাহিত না হয়। এখানে শর্ত ২টি। প্রথমটি হলো- তিনি যদি দণ্ডিত হন, তাহলে পারবেন না। আর অন্যটি হলো- দণ্ডিত ব্যক্তি মুক্তিলাভের পর ৫ বছরের আগে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কাজেই খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে দুটি ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং কোনো আদালত তার রায় দিয়ে এই সাংবাধানিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করতে পারেন না বলেও মন্তব্য তার।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, আমাদের আপিল বিভাগ কিংবা হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধান দ্বারা তৈরি। তাদেরকে সংবিধান দিয়ে চলতে হবে। কাজেই কোনো আদালত এটাকে অগ্রাহ্য করতে পারেন না। এর বিরুদ্ধে কেউ আপিল করলেও আমাদের একই বক্তব্য থাকবে। তারা সংবিধান অগ্রাহ্য করতে পারে না বলে আদালতকে জানানো হয়।

অন্যদিকে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে সংসদ নির্বাচনে যেতে না পারার সিদ্ধান্ত দিয়েছে আদালত। ফলে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন করা সংবিধান পরিপন্থী।

আদালতে দুর্নীতির দায়ে বিচারিক আদালতের দেয়া দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে আবেদনকারী বিএনপির ওই পাঁচ নেতাদের মধ্যে আছেন- আমান উলাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান ও মো. আব্দুল ওহাব।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর