রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২   আশ্বিন ৯ ১৪২৯   ২৮ সফর ১৪৪৪

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
দেশে ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে রাজধানীতে বাসে ই-টিকিট চালু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানা হয়নি অনেক মণ্ডপে চার বিভাগে ভারি বর্ষণ, আরো ৪ দিন বৃষ্টি
২৬০

বিশ্ববাজারে সাড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্যান্ট রফতানি বাংলাদেশের

প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০২২  

২০২২ সালে বিশ্বে ট্রাউজার বা প্যান্টের বাজার ১১০.২ বিলিয়ন ডলারের। আর এ চাহিদার ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ মিটিয়েছে বাংলাদেশ। প্যান্টের বাজারের সাড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলারের হিস্যা বাংলাদেশের। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এ হিসাব দিয়েছে বাজার ও ভোক্তাদের ডাটা পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্যাটিস্টা’।

বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করার পথে আমেরিকার মতো ইউরোপেও প্যান্ট রফতানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বাল্ক আইটেমের সস্তা প্যান্টের পাশাপাশি নিজস্ব ডিজাইনের ফ্যাশনেবল প্রিমিয়াম কোয়ালিটির জিন্সও পৌঁছে গেছে বিশ্বের নামীদামি ব্র্যান্ড শপগুলোতে।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বিজিএমইএ থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৫২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিদেশে রফতানি হয়েছে। এই রফতানির ৪২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আর এর মধ্যে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে প্যান্ট রফতানি থেকে, যা তৈরি পোশাক রফতানির ৩৪ শতাংশ এবং দেশের মোট জাতীয় রফতানির প্রায় ২৮ শতাংশ।

আগের অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে প্যান্ট রফতানি হয়েছিল ১০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে রফতানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রবৃদ্ধির হার ৩৬ শতাংশ। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের মোট ১২৯টি দেশে প্যান্ট রফতানি হয়েছে।

বাংলাদেশে তৈরি বিশ্বমানের জিন্স প্যান্ট- ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে তৈরি বিশ্বমানের জিন্স প্যান্ট- ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে প্যান্ট রফতানির সবচেয়ে বড় চালান গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত অর্থবছরে উত্তর আমেরিকার দেশটিতে ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের প্যান্ট নিয়ে গেছে বিশ্বের নামীদামি বায়াররা। এর পরেই আছে ইউরোপের দেশ জার্মানি। দেশি পোশাক রফতানির দ্বিতীয় প্রধান গন্তব্যে ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারের প্যান্ট রফতানি হয়েছে। এ ছাড়া ইংল্যান্ডে রফতানি হয়েছে ১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারের প্যান্ট।

বাংলাদেশ থেকে রফতানিকৃত প্যান্টের প্রধান বাজার ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র। ২০১২ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ছেলেদের প্যান্টের বাজার বাংলাদেশের দখলে। এর আগে এই বাজারটির দখলে রেখেছিল মেক্সিকো। এছাড়া চীন, ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশ।

ওটেক্সা এবং অ্যাপারেল রিসোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি-মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের কটন ট্রাউজার আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে দেড় বিলিয়ন ডলার কটন ট্রাউজার রফতানি করে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ রফতানিকারক। এই সময় রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

প্যান্ট রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে অর্ডার দিয়ে প্যান্ট নিচ্ছে গ্যাপ, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, রাল্ফ লরেন, হুগো বস, জারা, এইচঅ্যান্ডএম, সিঅ্যান্ডএ, চার্লস ভোগলে, র‍্যাংলার, আমেরিকান ইগল, মিলার, ডকার্স, ওয়ালমার্ট, ইউনিকলো, টম টেইলর ও ওল্ডনেভির মতো বিশ্বমানের ব্র্যান্ডগুলো।

দেশের বৃহত্তম ডেনিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, বাংলাদেশ এখন কম দামি থেকে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির জিন্স রফতানি করছে। বিশ্বমানের ব্র্যান্ড স্টোরগুলোতে এই মানের জিন্স সাধারণত ১২০ থেকে ১৫০ ডলারে বিক্রি হয়। এসব জিন্সে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য সংযোজন হচ্ছে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর