মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২   আষাঢ় ১৩ ১৪২৯   ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
কুষ্টিয়ায় বেড়েছে পাটের চাষ ৫ ঘণ্টায় মেহেরপুরের সবজি কাওয়ানবাজারে জনগণের ভাগ্য বদলই একমাত্র লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুতে চলছে সেনাবাহিনীর টহল কোরবানি উপলক্ষে প্রস্তুত মেহেরপুরের খামারিরা ছুটি শুরুর দু’দিন আগেই হল ত্যাগের নির্দেশ
৯৪

কুমারখালীতে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে হনুমান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মে ২০২২  

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বেশ কিছুদিন ধরে গাছ, ঘরের চালা, বাড়ির ছাদ ও দোকানসহ বিভিন্নস্থানে দেখা মিলছে বেশ কিছু মুখপোড়া হনুমানের। খাদ্য ও নিরাপত্তার খোঁজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে এসব হনুমানকে।

বৃহস্পতিবার (৫ মে ) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা এলাকার সরেজমিনে গিয়ে একটি সেতুর ওপর দলবদ্ধভাবে ৩ থেকে ৪টি হনুমানকে বসে থাকতে দেখা যায়। এই হনুমানগুলোকে নানা ধরনের খাবার দিতেও দেখা যায় কিছু লোককে।

স্থানীয়রা কলা, বিস্কুট, বাদাম, কেক এদের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে। সেই খাবার হনুমানগুলোকে গ্রহণ করতেও দেখা যাচ্ছে। গ্রামের শিশুদেরকে দেখা যাচ্ছে মাঝেমধ্যে হনুমানগুলোর পিছু নিতে। তবে শিশুদের ওপর কখনো আক্রমণ করতে দেখা যায়নি ওদের। এমনিভাবে বেশ কিছু হনুমানকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মাঝে দলবেঁধে ঘুরতে দেখা যায়।

বেশিরভাগ সময় এদরকে গাছ, ঘরের চালা, বিল্ডিংয়ের ছাদ ও বিভিন্ন প্রাচীরের ওপরে বসে থাকতে দেখা গেলেও খাবার সন্ধানে ওরা নিচে নেমে আসে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে খাবার খেয়ে আবারো উঠে যায় তাদের সুবিধাজনক স্থানে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই যদুবয়রা ইউনিয়নসহ কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতে মাঝে মধ্যেই দেখা মিলছে এসব মুখপোড়া হনুমানের। এসব হনুমান হঠাৎ করেই লোকালয়ে চলে আসে। এদের দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করলে এরা মাঝে মাঝে অতঙ্কিত হয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়।

কেউ কেউ এই হনুমানগুলোকে ঢিল ছোড়ে এবং লাঠি দিয়ে আঘাতও করে। তবে হুনুমানগুলোকে কখনো কারো ওপর আক্রমণ করতে দেখা যায়নি। আবার অনেকেই এদের কলা, বিস্কুট, রুটিসহ বিভিন্ন রকমের খাবারো দিয়ে থাকে। তবে এই খাবার এদের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

সরকারিভাবে এদের জন্য খাবার সরবরাহ ও এদেরকে রক্ষার পদক্ষেপ নেয়ার দাবিও জানান এলাকাবাসী। তারা আরো জানান, এসব বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে বনবিভাগ বা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কারো তৎপরতা কখনো দেখা যায়নি।

এ ব্যাপারে কুমারখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিক জানান, হনুমান, বানর, সাপ, হাতিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেখভালের দায়িত্ব বন বিভাগের। হনুমান যেহেতু বন্যপ্রাণী সেহেতু এদের দেখভালের দায়িত্বও বনবিভাগের। আমাদের আসলে এই বিষয়টি নিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই।

কুষ্টিয়া অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জি এম মোহাম্মাদ কবির বলেন, বন্যপ্রাণীর খাবার দেয়ার জন্য আগে আমাদের ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিলো। বর্তমানে সেই বরাদ্দ এখন ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। এখন এসব প্রাণীদের রেগুলার খাবার দেয়া হচ্ছে। প্রতি উপজেলার ইউএনও’র নেতৃত্বে স্ব স্ব কমিটি আছে, ওই কমিটি এগুলো তদারকি করে। ওনাদের তদারকিতেই খাবারটা নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মণ্ডল বলেন, এ অঞ্চলে ইদানিং বেশ কিছু হনুমান দেখা যাচ্ছে। বন্যপ্রাণীর খাবারের জন্য মেহেরপুর জেলার জন্য অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। এখনো আমাদের এই অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ হয়নি। বন বিভাগের সাথে ইতোমধ্যে কথা বলেছি। দ্রুতই এদের মনিটরিং সম্পর্কে একটা সভা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বন বিভাগের সাথে মিটিং করে ডিসি স্যারের মাধ্যমে মিনিস্ট্রিতে পত্র দিলে বাজেট পাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। বাজেট পেলেই আমরা হনুমানগুলোর জন্য খাবার ব্যবস্থা করতে পারবো।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর