বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯   ১২ মুহররম ১৪৪৪

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
১৩০৭

রেস্টুরেন্টগুলোতে ভোজন রসিকদের ঢল

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০১৯  

ঈদের দ্বিতীয় দিন সকালে ছিল তীব্র রোদ, দুপুরে বাগড়া বসায় বৃষ্টি। তাই এ সময়ে রাজধানীর রাস্তা ছিলো ফাঁকা। ফলে বিকেল ৩টার পর মেঘলা পরিবেশে হালকা স্বস্তি ফিরতেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে ঢাকাবাসী। সড়কে নামে মানুষের ঢল। রাস্তা, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরাঘুরিতে ক্লান্ত ভোজন রসিকরা সন্ধ্যায় ভিড় জমান ফুটপাত থেকে শুরু করে থ্রিস্টার মানের রেস্টুরেন্টগুলোতে।

পুরান ঢাকায় দেখা গেছে, নীরব হোটেল, আল রাজ্জাক, হাজীর বিরিয়ানি, রয়্যাল, ভূতেরবাড়ি, ফখরুদ্দিনসহ অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট ভোজন রসিকদের পদচারণায় ছিল মুখর। 

ধানমণ্ডিতে দেখা গেছে, সেভেন্থহ্যাভেন, স্টার কাবাব, হান্ডি, ‘ভ্যাপিয়ানো’, ‘নস্টালজিয়া’, ‘ক্যাফে দ্রুম’, ‘ক্রিম অ্যান্ড ফাজ’ সিক্রেট রেসিপি থেকে ট্রাম্প ক্যাফের মতো প্রায় অনেক রেস্টুরেন্টে ছিল উপচে পড়া ভিড়।  

খিলগাঁও তালতলা এলাকার ‘কমিক ক্যাফে’, ‘চেরি ড্রপস’, অলিভার’স রেস্তোরাঁ, ‘ভূতের আড্ডা’, ‘সরমা কিং’, ‘গ্রাইন্ড হাউজ’, ‘পেটুক’, ‘আল ফ্রেসকো’রেস্টুরেন্টের টেবিলে টেবিলে ছিল ভোজন রসিকদের আড্ডা। 

বেইলি রোডে বুমার্স ক্যাফে, ক্যাফে থার্টি থ্রি, গোল্ডেন ফুড, নবাবী ভোজ, হক রেস্টুরেন্ট, রেড কোর্ট রেস্টুরেন্টেও ছিল একই অবস্থা।

বনানীর ‘ফিয়েস্তা’, ‘প্লাটিনাম টেরেস’, ‘ক্যাফে ইতালিয়ানো’, ‘সসলিজ’, ‘অফ ট্র্যাক’, ‘রসনা বিলাস’রেস্টুরেন্ট, হেরিটেজ ফিউশান কুজিন, নান্দুস, কাস্পিয়ান পার্সিয়ান ক্যুজিন, লাসানিয়া কাবানায় ছিল ভোজন রসিকদের জমজমাট আসর। 

অভিজাত এলাকা গুলশানের ব্যাটন রুজ রেস্টুরেন্ট, টপকাপি, ভিলেজ, সেভেন হিল রেস্টুরেন্টের অবস্থাও ছিল অনুরূপ। 

গুলশান-বারিধারার ডন জিওভান্নি রেস্টুরেন্ট, তার্কিশ কাবাব অ্যান্ড পিজার অবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। 

মতিঝিলের ক্যাফে ঝিলসহ রাজধানীর প্রতিটি রেস্টুরেন্টে যেন বসেছিলো ভোজন রসিকদের খাওয়ার প্রতিযোগিতা।  

রেস্টুরেন্টে খেতে আসা ধানমণ্ডির সুমাইয়া আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, দুই বান্ধবী মিলে সিক্রেট রেসিপিতেই খেতে এসেছি। কিন্তু ভিড়ের কারণে জায়গা পাওয়াই কঠিন ব্যাপার। তার ওপর অর্ডার দিলেও ঘণ্টার আগে খাবার পাওয়ার সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও আড্ডার আনন্দের অন্যতম জায়গা রেস্টুরেন্টই পছন্দ আমার।

শুধু সুমাইয়াই নন, কফি হাউজ বা রেস্টুরেন্টগুলো এদিন নানা বয়সী মানুষের আড্ডায় মুখর ছিল। আনন্দ উদ্দীপ্ত শহরবাসী বিকেলের ঘুরাঘুরির পর ক্লান্তি ও ক্ষুধা নিবারণে রিকশা, গাড়ি বা মোটরবাইক চেপে ভিড় করেছেন রেস্টুরেন্টে।

ঈদের দ্বিতীয় দিন হওয়ায় রাতেও এ রেস্টুরেন্টে ছিল জমজমাট। দলবেঁধে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়ানো শেষে পরিবার বা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে খাওয়ায় ডুবেছেন অনেকেই। 

ফলে অন্যদিনের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বিক্রি বেড়েছে রেস্টুরেন্টগুলোতে এমনটিই জানান সংশ্লিষ্টরা। 

দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে অর্ডার সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াটারফল রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ জানান, স্বাভাবিকের তুলনায় এখন চাপ বেশি। হুট করেই তাদের (ক্রেতাদের) পছন্দমতো খাবার তৈরি সম্ভব নয়। এজন্য সময়ের প্রয়োজন হয়। এরপরও আমরা চেষ্ট করেছি সার্ভিস দিয়ে ক্রেতাদের তুষ্ট করতে। আমরা ইচ্ছা করে খাবার তৈরিতে দেরি করছি না।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা