বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

২৩৩৫

হানিফে উন্নয়ন, কালো টাকায় ভরসা জাকিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০১৮  

কুষ্টিয়া-৩ আসনে এবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন জাকের হোসেন। এর আগে কালো টাকার জোরে জেলার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হন তিনি। দলের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনকে পেছনে ফেলে এবার তিনি ধানের শীষের টিকেট নিতে সক্ষম হয়েছেন। এজন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের রাজি করাতে তাকে দিতে হয়েছে মোটা অংকের অর্থ। এর বিনিময়েই পেয়েছেন মনোনয়ন। 

এবার প্রশ্ন একটাই। মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও এমপি নির্বাচিত হবেন কীভাবে? নির্বাচনী মাঠে জাকির অনুপস্থিত দীর্ঘদিন। তৃণমূলের মানুষের সাথেও খুব একটা সম্পৃক্ততা নেই। দলের মধ্যে রয়েছে তীব্র গ্রুপিং। মনোনয়ন বঞ্চিতরা যে খুব একটা কাজ করবেন তাও বলা যাচ্ছেনা। আবার জামায়াতকেও এবার মাঠে পাওয়া যাবেনা। আবার নির্বাচনী দিনক্ষণও ঘনিয়ে এসেছে। সব থেকে বড় কথা প্রতিপক্ষ যে বাংলাদেশ  আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। গত নির্বাচনে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিপুল ভোটে। গত ৫ বছরে পাল্টে দিয়েছেন কুষ্টিয়া সদরের চিত্র। তৃণমূলে গড়েছেন শক্ত ভীত। সাংগঠনিক অবস্থাও মজবুত। বিভেদ নেই আওয়ামী লীগে।

সবাই একাট্টা হানিফের পক্ষেই। যেকোন প্রার্থীকে মোকাবিলা করার সক্ষমতা রয়েছে সদরের প্রার্থীর । নৌকার পক্ষে ভোট টানতে খুব একটা অসুবিধাও হবেনা। সুতরাং জাকিরের পক্ষে ভোটের সমীকরণ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। তবে এবার সেই জটিল হিসেব নিকেশ কষতে হলে তাকে অসম্ভবকে সম্ভব করতে হবে। ১৯দিনে ৩লাখ ৭২ হাজার ৮১৫ জন ভোটারের কাছে যেতে হবে তাকে। এরই মধ্যে একজন ভোটারের কাছে যেতে পেরেছেন বলে মনে হয়নি। ১৯দিনে তা আদৌ অসম্ভব ব্যাপার স্যাপার। এমনও নয় যে তার বিপুল কর্মী বাহিনীও রয়েছে। তাহলে কিভাবে ভোটের মাঠে সফল হবেন। রাজনীতিতে একটা কথা আছে কালো টাকার ব্যবহার। সংসদ নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি ঠেকানো যায়না। কমবেশি হয়েই থাকে।

তাহলে কি জাকির সেই কালো টাকার বিনিময়েই এই অসম্ভবকে সম্ভব করবেন? যদি তাকে সফলকামী হতেই তাহলে এই একটি পথই খোলা তাঁর জন্য। অবশ্য ভোটের মাঠে গুঞ্জন রয়েছে জাকির হোসেন নাকি এবারের নির্বাচনে বিপুল পরিমান কালো টাকার ব্যবহার করবেন। এজন্য তিনি মহাপরিকল্পনাও করেছেন। কুষ্টিয়া সদর ও পৌর বিএনপির কতিপয় নেতা আর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি/সম্পাদকদের কাজে লাগাবেন। আর অর্থের লেনদেন করবেন বিশ্বস্ত কিছু নেতা। প্রতিনিয়ত বৈঠকও হচ্ছে এবিষয়ে। এতসব গুঞ্জনের কিছু আলামতও মিলছে ভোটের মাঠে। ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও একটি কাকপক্ষীও মিলছেনা জাকিরের কোন কর্মী সমর্থকদের। আর এতেই শঙ্কা কালো টাকার ব্যবহারে। 

এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বক্তব্য হানিফ কুষ্টিয়া সদরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দীর্ঘ সময় মানুষের সাথে মিশেছেন। দলের নেতাকর্মীরাও ঐক্যবদ্ধ। তাঁর প্রতি মানুষের রয়েছে অগাধ আস্থা। আর একারনেই মানুষ হানিফকে বিজয়ি করবেন। বিপরিত চিত্র বিএনপি প্রার্থী জাকিরের। তার পক্ষে ভোটের মাঠে ফায়দা পাওয়া বেশ দুরহ হবে বলে মনে করেন তারা।  
 

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর