বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
৫২

সরকারের এক বছরে শিক্ষায় যত অর্জন

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২০  

শিক্ষায় বাংলাদেশের অর্জন এখন সারা বিশ্বে স্বীকৃত। আফ্রিকা বা অনগ্রসর দেশগুলো যখন শিক্ষায় ছেলে-মেয়ের সমতা অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই স্তরেই সেই সমতা অর্জন করে ফেলেছে। গত ১১ বছরে দেশে যত উন্নয়ন হয়েছে, তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে শিক্ষার। এ কারণেই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গত বছর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার।

গত এক বছরে শিক্ষাখাতের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ২৪ হাজার ৪১ কোটি টাকা। আর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ২৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ ৭ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘোষণার পর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এরপর গত আগস্টে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন নেয়া হয়। মোট ৯ হাজার ৬১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে আবেদন করে। যাচাইয়ে এমপিও নীতিমালার সব শর্ত পূরণকারী দুই হাজার ৭৬২টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ঘোষণাও বাজেটে করা হয়। পরে গত অক্টোবরে সাড়ে নয় বছর পর দুই হাজার ৭৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে সরকার।

এছাড়া, গত এক বছরে সারাদেশে ২৬ হাজার ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৮ হাজার ৯৪৭ মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ, ২০০ ল্যাংগুয়েজ কাম আইসিটি ল্যাব, এক হাজার সায়েন্স ল্যাব, দুই হাজার ১২০ স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ, ৪৬ হোস্টেল নির্মাণ এবং আসবাবপত্র, অফিস সরঞ্জামাদি ও আইসিটি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে নতুন পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষার পরিবেশের স্বার্থে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। গত এক বছরে এমপিও দেয়া, প্রশ্ন ফাঁস রোধ করাসহ শিক্ষায় উল্লেখ করার মত অনেক কাজ হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই জায়গাটিতে দ্রুত কাজ করতে পারলে, বাংলাদেশ বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করতে পারবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, সামনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে মানুষের কর্মক্ষেত্র কমছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে আমরা নেতৃত্ব দিতে চাই। এজন্য এর চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে পরিমার্জনের কাজ শুরু করা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা হবে।
এবছর শিক্ষা খাতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নয়নের যোগ্যতা নির্ধারণের বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগটি বেশ আলোচিত হয়।
শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নতুন যে বিধিমালাটি করা হয়েছে সেটি বাস্তবায়িত হলে নিয়োগ ও পদোন্নতি পেতে দুর্নীতি কমবে। এটিকে শিক্ষাখাতের বড় অর্জন বলা যায়।

শিক্ষাখাতের অন্যান্য অর্জনের মধ্যে ২০২০ সাল থেকে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ৬৪০টি স্কুলে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা ও ২০২১ সাল থেকে মাধ্যমিকের সব ক্লাসে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তটিকে যুগোপযোগী বলে মত দিয়েছেন রাশেদা কে চৌধুরী।

তবে এসবের বাইরেও শিক্ষা খাতে গত বছর আরো বেশ কিছু অর্জন রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে ১৩ হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার নতুন ভবনের কাজ শুরু করা, বঙ্গবন্ধু এভিয়েশন ও এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস, হবিগঞ্জ ও চাঁদপুরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আইন প্রণয়ন, মাদরাসা বোর্ড আইন ২০১৯ পাস, ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষা আইন চুড়ান্ত করা।

এছাড়া খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু, সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জিপিএ ৫ এর পরিবর্তে জিপিএ ৪ প্রবর্তণের উদ্যোগ গ্রহণ, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন রোধে কমিটি করার উদ্যোগ, ২০২০ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনটি বিষয়ে (শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, চারু ও কারু, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা) ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করা, দেশে ২০ হাজার স্কুলে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা, দেশের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ১৩টি কলেজকে সেন্টার অব এক্সেল্যান্স হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর