সোমবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩   আশ্বিন ১০ ১৪৩০   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
১৫৪

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যে ৫ খাবার প্রতিদিন খাবেন

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দিকে মনোনিবেশ করা জরুরি। আপনার ইমিউন স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করাই যেকোনো ভাইরাল আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর। যদিও কারও কারও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়, বাকিরা স্বাস্থ্যকর জীবনধারার মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি তৈরি করে। এই প্রচেষ্টায় খাদ্য প্রধান ভূমিকা পালন করে। 

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সুবিধাগুলো আমরা সবাই বুঝতে পারি। তবে মহামারি হওয়ার পর থেকে প্রাধান্য পেয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী খাবার। আমাদের রান্নাঘরে বিভিন্ন উপাদানে মজুদ থাকে যা সামগ্রিক পুষ্টিতে সহায়তা করে এবং শরীরকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী খাবার খাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারকে সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী বলা হয়। এগুলো ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে, প্রদাহ প্রতিরোধ করে এবং শরীরে রক্ত ​​ও অক্সিজেন প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। যা শরীরের সুস্থ কার্যকারিতার জন্য জরুরি। এগুলো একত্রিত হয়ে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। সেইসঙ্গে বিভিন্ন মৌসুমী রোগ এবং ভাইরাল আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। জেনে নিন ৫টি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী খাবার সম্পর্কে যা প্রতিদিন খেতে হবে-

কাঁচা মরিচ

ডিকে পাবলিশিং-এর ‌‘হিলিং ফুডস’ অনুসারে, কাঁচা মরিচে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিন থাকে, উভয়ই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং বিভিন্ন কোষের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন একটি কাঁচা মরিচ খেলে তা আপনাকে ভিটামিন সি এর দৈনিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করতে পারে।

আমলকি

আমলকি একটি সুপারফুড এবং এখন পর্যন্ত এর উপকারিতা সম্পর্কে অনেককিছুই জানানো হয়েছে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার।বিভিন্ন রোগ থেকে আপনাকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করে এর অ্যান্টি-ভাইরাল বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও আমলকি হজমেও সহায়ক। আমলকি কেটে রোদে শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। এটি মুখের রুচি বৃদ্ধিকারী হিসেবেও কাজ করে।

লেবু

ভিটামিন সি এর আরেকটি জনপ্রিয় উৎস হলো লেবু। এটি আমাদের প্রায় সবার বাড়িতেই পাওয়া যাবে। লেবু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। আপনি যে ডাল বা শাক-সবজি খাচ্ছেন তার সঙ্গে লেবু রাখতে পারেন। এছাড়া লেবুপানি বা লেবুর শরবতও তৈরি করে খেতে পারেন।

মসলা

হলুদ, জিরা, ধনিয়া, গোল মরিচ এবং অন্যান্য মসলা শুধু স্বাদই বৃদ্ধি করে না, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও দারুণ কার্যকরী। এগুলোতে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। সেইসঙ্গে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-সেপটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আমাদের খাবারের উপকারিতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে। তাই বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিভিন্ন ধরনের মসলা রাখতে হবে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায়। 

বাদাম

চিনাবাদাম, কাজু, পেস্তা, আখরোট, কাঠবাদাম ইত্যাদি প্রতিদিন খেলে অনেক উপকার মিলবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকরী। বাদাম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্মুদি, শেক তৈরি করে খাওয়ার পাশাপাশি এগুলো কাঁচাও খেতে পারেন। বাদাম খেলে তা অন্ত্রের স্বাস্থ্য, ত্বকের স্বাস্থ্য এবং দৃষ্টিশক্তিও বৃদ্ধি করে।

আপনি যদি সতর্কতার সঙ্গে খাবারের পরিকল্পনা করেন, তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় উপরের সমস্ত উপাদান রাখা কোনো কঠিন কাজ নয়। তবে মনে রাখবেন, কোনো খাবারই বেশি খাবেন না, কারণ সবকিছুই অতিরিক্ত খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য ব্যবস্থার পরিকল্পনা করার সময় এটি আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার খান, ফিট থাকুন।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা