মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
১০

রাত পোহালেই ঈদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২০  

'মনের পশুরে করো জবাই,/পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই'- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এ অনুভূতিতে জাগ্রত, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা শুরু হবে আজকের রাত পোহালেই।

নয় দিন আগে পশ্চিম আকাশে উদিত জিলহজ মাসের চাঁদ তাগিদ দিয়েছে কোরবানির। সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের ঈদের পার্থক্য হলো, এ দেশের মানুষ ঈদ করতে নগর থেকে ফিরে যান গ্রামে, প্রিয়জনের কাছে। আজ থেকে শুরু হয়েছে ঈদের ছুটি। গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসে কাজকর্ম শেষ করে শহুরে মানুষ নাড়ির টানে বাড়ির পথ ধরেছেন। আগামীকাল শনিবার সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর পথে পশু কোরবানি করবেন। তবে পশু এ ক্ষেত্রে প্রতীকমাত্র। লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ নিয়ে মনে যে পশু বাস করে, তাকে পরাভূত করাই পবিত্র ঈদুল আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য।

কোরবানির শিক্ষা সম্পর্কে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ বলেন, 'মনের মধ্যে অহঙ্কার রেখে নিজেকে জাহির করতে অনেক দামে পশু কিনে লোক দেখানো কোরবানিতে আল্লাহকে রাজি-খুশি করা যাবে না। পশুর রক্তপাতের আগেই তার কোরবানি কবুল হবে, যিনি আল্লাহর পথে ত্যাগের নিয়তে কোরবানি করবেন।' এ কারণেই কবি নজরুল তার কবিতায় বলেছেন, 'অসুন্দর ও অত্যাচারীকে বিনাশ করিতে যারা/জন্ম লয়েছে চির-নির্ভীক যৌবন-মাতোয়ারা,-/তাহাদেরই শুধু আছে অধিকার ঈদগাহে ময়দানে/তাহারাই শুধু বকরীদ করে জানমাল কোরবানে।'

পবিত্র কোরআনের বর্ণনানুযায়ী, চার হাজার বছর আগে আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার সবচেয়ে প্রিয় নিজ সন্তান হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে তার পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। হজরত ইব্রাহিমের (আ.) এই ত্যাগকে স্মরণ করে উদ্বুদ্ধ হতে প্রতিবছর মুসলমানরা কোরবানি করেন। আল্লাহর পথে ত্যাগই ঈদুল আজহার প্রধান শিক্ষা।

এদিন সামর্থ্যবানরা নিজেদের কিংবা প্রিয়জনের নামে পশু কোরবানি দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায়ে সচেষ্ট থাকেন। যাদের সামর্থ্য নেই, তারাও বাদ যাবেন না ঈদের আনন্দ থেকে। কোরবানির মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করার বিধান রয়েছে ইসলামে। প্রতিবছর পবিত্র জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পবিত্র এই মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো দিন পশু কোরবানি দেওয়া যায়। সে হিসেবে আগামী রোববার ও সোমবারও কোরবানি করা যাবে।

আগামীকাল সকালে পরিষ্কার অথবা নতুন পোশাক পরে সব বয়সী মানুষ শরিক হবেন ঈদের জামাতে। এককাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আদায় করবেন ঈদের নামাজ। ভুলে যাবেন সব ভেদাভেদ। নামাজের জন্য প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহসহ অন্য ময়দানগুলো।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে ঈদুল আজহার ত্যাগের শিক্ষায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে কোরবানির আত্মত্যাগের শিক্ষায় সমৃদ্ধ দেশ-জাতি গঠনের আহ্বান রেখেছেন।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর