শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক আজ নেদারল্যান্ডসের রাজধানীতে প্রথমবারের মতো মাইকে আজান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার তদন্ত বন্ধ করছে সুইডেন দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
৬০

রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কে নিদারুণ দুর্ভোগে ঈদযাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০১৯  

রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পুনর্নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। ৩৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্যাকেজের মাধ্যমে একাজ চলছে গত দুই বছর ধরে। প্যাকেজগুলোর মধ্যে একটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে একটির মেয়াদ। তৃতীয় প্যাকেজের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ধীরগতিতে কাজ চলার কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছে যাত্রী সাধারণ ও পরিবহন শ্রমিকরা। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এখনও রয়ে গেছে খানাখন্দ। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। 

রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ সূত্র জানায়, চারটি প্যাকেজের মাধ্যমে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কটির রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় থেকে পাংশা উপজেলার শিয়ালডাঙ্গি পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার এলাকার পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের শেষ দিকে। 

প্রথম প্যাকেজে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় থেকে জেলা পরিষদ পর্যন্ত আট কিলোমিটার রাস্তার কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে। শুধু রাস্তার দুই পাশে সংকেত স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। 

দ্বিতীয় প্যাকেজে জেলা পরিষদ থেকে আহমেদ আলী মৃধা কলেজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স ও অহিদ কনস্ট্রাকশন এ প্যাকেজের কাজ করছে। এ প্যাকেজের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ২৬ জুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫০ ভাগ কাজও সম্পন্ন হয়নি। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে নির্মাণ ব্যয়ও। নতুন করে নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ কোটি ২০ লাখ টাকা। 

তৃতীয় প্যাকেজটি সবচেয়ে বড়। ২২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে আহমেদ আলী মৃধা কলেজ থেকে শিয়ালডাঙ্গি পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার রাস্তার কাজটি করছে মীর হাবিবুল আলম ও শামীম এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা। এ পর্যন্ত মাত্র ৩৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই- একথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর স্বীকার করেছে। 

অপরদিকে চতুর্থ প্যাকেজে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা থেকে জৌকুড়া ঘাট পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার রাস্তার কাজ চলছে। এ রাস্তার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

প্যাকেজ-২ এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার মীর্জা বেগ জানান, ৪ দশমিক ১ কিলোমিটারের মধ্যে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদের নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে। 

প্যাকেজ-৩ এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর হাবিবুল আলম লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মীর হাবিবুল আলম জানান, যখন ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছিলেন তখন বৃষ্টির মৌসুম ছিল। যে কারণে তারা কাজ করতে পারেননি। এখন বৃষ্টির মৌসুম চলছে। আমরা মালপত্র নিয়ে প্রস্তুত আছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হয়তো কাজ শেষ হবে না। আরও কিছুটা সময় লাগবে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করেন তিনি। 

রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে প্রথম প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ করতে সময় লাগার কারণে দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। এ পর্যন্ত ৩৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। শহরের বড়পুল পর্যন্ত বিটুমিন প্রথম পর্যায়ে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ বাকি রয়েছে। এ প্যাকেজের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ প্যাকেজের নির্মাণ ব্যয় বাড়ানোর কারণ সম্পর্কে বলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার ডিজাইন অনুযায়ী ড্রেন করার কারণে নির্মাণ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। তৃতীয় প্যাকেজের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। যে গতিতে কাজ চলছে তার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে কাজ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। এভাবে চললে কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নির্মাণাধীন মহাসড়কের খানাখন্দ ভরাট করা হবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর