বুধবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২১   অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৮   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
রূপান্তরে বাংলাদেশ উত্তরণে বাংলাদেশ দুটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান শতবর্ষ উদযাপনে বর্ণিল সাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যশোরে আনসার-ভিডিপি’র পতাকা র‌্যালি করোনা বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ হবে: প্রধানমন্ত্রী ভারত-পাকিস্তান থেকে নানা সূচকে এগিয়ে বাংলাদেশ
১৪১৫

যবিপ্রবিতে অর্ধশত অস্বাভাবিক নিয়োগ বোর্ড!

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) প্রায় অর্ধশত অস্বাভাবিক নিয়োগ বোর্ড ও আপগ্রেশন বোর্ড গঠন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ বোর্ডে চাকরিপ্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে ডাকায় অনেক প্রার্থী বোর্ডে হাজির হতে পারেননি। এতে যোগ্যদের নিয়োগ প্রাপ্তির সুযোগ  নষ্ট হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য বোর্ড সভা করে কর্তৃপক্ষ। এজন্য পর্য়াপ্ত সময় না দিয়ে আবেদন করা ৯৯ জন চাকরি প্রত্যাশীকে মাত্র ৪দিন আগে ৩ আগস্ট নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করা হয়।  ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বোর্ডের সভাটি হয় ৪ আগস্ট। আর এক্ষেত্রেও ৪দিন আগে নোটিশ করা হয় ৩০ জুলাই। অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে ১০ জুলাই নোটিশের পর ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় নিয়োগ বোর্ড। আর কেমিক্যাল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বাছাই বোর্ডের সভাটি হয় ১৬ জুলাই।  এজন্য আগের দিন ১৫ জুলাই নোটিশ জারি করা হয়।

এর আগে গত ২১ মে অধ্যাপক,  সহযোগী অধ্যাপক,  সহকারি অধ্যাপক, সেকশন অফিসারসহ ৪৯টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যবিপ্রবি প্রশাসন। 

তবে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে অমান্য করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনার বাইরে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে বলে তখন স্বীকার করেছিলেন যবিপ্রবির রেজিস্টার ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিব।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ জনবল নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির আশঙ্কায়  মন্ত্রণালয়সহ সংশি¬ষ্ট দপ্তরে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এভাবে অস্বাভাবিক নিয়োগ করে আগামী রিজেন্ট বোর্ডে তা অনুমোদন করিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। যেখানে কয়েক কোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অনেক যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, কয়েক কোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্যকে টার্গেট করে মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। মঞ্জুরি কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত পদ ব্যতীত বা পদ পরিবর্তন বা উ”চতর পদের বিপরীতে নিম্ন পদে কোন জনবল নিয়োগ প্রদান করা যাবে না। কিন্ত এই নির্দেশনা অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত গত ২১ মে প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তিতে জনবল নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। 

প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অধ্যাপক হিসেবে গণিত বিভাগের দুইজন ও ফার্মেসি বিভাগে একজন নিয়োগ দেয়া হবে। তবে এই বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার ক্ষেত্রে ওই পদের বিপরীতে সহযোগী অধ্যাপক বা সহকারী অধ্যাপক অথবা প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তির দুই নম্বরে সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে গণিত বিভাগের দুইটি অ¯’ায়ী পদে, রসায়ন বিভাগে দুইটি পদে, ফার্মেসি বিভাগে একটি অস্থায়ী পদে নিয়োগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এখানে গণিত বিভাগে এবং ফার্মেসি বিভাগে অধ্যাপক পদের বিপরীতে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ দেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। এভাবে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে একই শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী এভাবে জনবল নিয়োগের সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিব বলেন, অধ্যাপক পদের বিপরীতে যদি যোগ্য কাউকে না পাওয়া যায় এজন্য এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে নির্দেশনা থাকলেও ভিসি স্যার তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

আর অস্বাভাবিক নিয়োগ বোর্ড সম্পর্কে রেজিস্ট্রার ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিব বলেন, আইন মেনেই সব কিছু করা হচ্ছে। জনবল নিয়োগে কোন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর