সোমবার   ০১ মার্চ ২০২১   ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭   ১৭ রজব ১৪৪২

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
জর্ডানের রাজার সঙ্গে গোপন বৈঠক ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এফ কমার্স: নতুন তারকার সমস্যা ও সম্ভবনা মেহেরপুরে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালিত
৬৪

মেহেরপুরে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

মেহেরপুরের মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষাবাদের জন্য উপযোগী। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অপার। তাই কৃষি বিভাগ সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুব্ধ করতে পরীক্ষামূলকভাবে জেলার একমাত্র তেলবীজ খামার আমঝুপিতে এর উৎপাদন শুরু করেছে।

দ্রুত সময়ের মধ্যে সূর্যমুখী ফুলের চাষ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিএডিসির আওতাধীন আমঝুপি সবজি বীজ উৎপাদন খামার সূত্রে জানা গেছে, অনেকে বাড়ির আঙিনায় ও অফিসের সামনে শখের বসে সূর্যমুখী ফুল চাষ করলেও এটি একটি তেলজাতীয় ফসল। এটি স্থানীয়ভাবে দামি ফসল হিসেবেও পরিচিত। ভোজ্য তেলের মধ্যে সূর্যমুখীর তেল শরীরের জন্য অত্যন্ত ভালো। সূর্যমুখীর চাষাবাদ কৃষকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে তেলবীজ খামারের ১৮ বিঘা জমিতে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলায় আরো ২৭ বিঘা জমিতে এর চাষ করা হয়। ফুলের সৌন্দর্য দেখতে খামারে আসছেন দর্শনার্থীরা। অনেকে এটি চাষ করার পরামর্শও নিচ্ছেন।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার বিডি দাস জানান, চিকিৎসকদের মতে, সূর্যমুখীর তেল অন্যান্য সাধারণ তেলের চেয়ে একটু আলাদা। কোলেস্টেরলমুক্ত সূর্যমুখীর তেলে প্রচুর পরিমাণে প্রাণশক্তি থাকায় এটি আমাদের শরীরের দুর্বলতা কমায় ও কার্যক্ষমতা বাড়ায়। রান্নার জন্য সয়াবিন তেলের চেয়ে সূর্যমুখীর তেল দশ গুণ বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ। শরীরের হাড় সুস্থ ও মজবুত করে। সূর্যমুখী তেলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম আমাদের মানসিক চাপ দূর করে। এককথায় সূর্যমুখী তেল মানবদেহের মহৌষধ হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আবু বক্কর সূর্যমুখী ফুলের খামার দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, সূর্যমুখী একদিকে মনোমুগ্ধকর অন্যদিকে লাভজনক ফসল। বিস্তারিত জানার পর আমি তিন বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করার পরিকল্পনা করেছি।

মেহেরপুর বিএডিসির উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী ফুল চাষে খরচ কম। এতে সার-ওষুধ কম লাগে। তেমন পরিচর্যাও করতে হয় না।

তাছাড়া অন্যান্য তেলবীজ থেকে বেশি তেল পাওয়া যায়। পুষ্টি চাহিদা পূরণে সূর্যমুখী তেলের জন্য বিদেশ থেকে এর বীজ আমদানি করতে হয়। দেশে এর আবাদ করা গেলে আর আমদানি করা লাগবে না।

তিনি বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে সারিবদ্ধভাবে বীজ বপন করা হয়। বীজ বপনের ৯০-১০০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ও দুবার সেচ দিতে হয় এ ফসলে। প্রতি একর জমিতে ২০-২২ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক একর জমির উৎপাদিত বীজ থেকে ৬০-৬৫ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর