মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
৬৯

মেহেরপুরে দু’জনের করোনা জয়ের গল্প

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২০  

জাহাঙ্গীর হোসেন নিজের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গাতে হলেও বসবাস করেন মুজিবনগর উপজেলার বল্লবপুর গ্রামে। তিনি পেশায় একজন ব্র্যাককর্মী। গত ২২ এপ্রিল মেহেরপুরের প্রথম করোনা পজিটিভ হিসেবে তাকে শনাক্ত করা হয়। মাত্র ১৪ দিনেই করোনা ভাইরাসকে প্রতিহত করে এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ।

গত ৮ মে মেহেরপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জাহাঙ্গীর হোসেনের নমুনা পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। সে পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তার। নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুনরায় তার নমুনা পাঠানো হলে সে রিপোর্টও নেগেটিভ আসে। পরপর দুইবার তার রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ায় মেহেরপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জাহাঙ্গীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ভাইরাস থেকে সুস্থ ঘোষণা করে।

করেনা জয়ের গল্প শোনাতে গিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ২২ এপ্রিল প্রথম যখন আমার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে, তখন আমি একটু নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। পরে মনোবল শক্ত করে ডাক্তারি পর্রামর্শ মত একা একা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতাম। নিয়মিত গরম পানি দিয়ে গড়গড়া ও ভিটামিন যুক্ত খাবার খেতাম। সবসময় পরিস্কার পরিছন্ন থাকতাম। আমার থেকে অন্য কেউ যাতে আক্রান্ত না হয় সেজন্য মুখে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস সবসময় ব্যবহার করতাম।

আমার স্ত্রী ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেই সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওসমান গনি আমাকে নিয়মিত সাহস দিত। হোম কোয়ারেন্টাইন থাকা অবস্থায় সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা আমি পেয়েছি। তারা নিয়মিত আমার খোঁজ খবর রাখতো। আল্লাহর রহমতে খুব অল্পদিনেই আমি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়েছি।

করোনা জয়ী অপর একজন হলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলার বাড়িবাঁকা গ্রামের রাশেদুল ইসলাম। তিনি মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার এলাকায় পলি ফার্মেসিতে ডা. অলোক কুমারের সহকারি হিসেবে কাজ করতেন। গত ৩০ এপ্রিল রাশেদুল ইসলামের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। এর পর থেকেই তিনি বাড়িবাঁকার নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা করান এবং মাত্র ১৪ দিনেই এ ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেন।

গত ১৪ মে রাশেদুল ইসলামের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পুনরায় পরীক্ষা করা হলে সে রিপোর্টও নেগেটিভ আসে তার। পরপর দুইবার তার রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ায় মেহেরপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ রাশেদুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করে।

করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমার করোনা পজিটিভ হওয়ার পর নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলাম। ভেঙ্গে না পড়ে আত্মবিশ্বাস রেখে শরীরের প্রতি নিয়মিত যত্ন নিতাম। নিয়মিত ব্যায়াম করতাম, গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করতাম, ভিটামিন যুক্ত খাবার খেতাম এবং ডাক্তারের পরামর্শমত শুধু প্যারাসিটামল ওষুধ খেতাম।

জেলা সিভিল সার্জন নাসিরুদ্দিন বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে মেহেরপুরের করোনা পরিাস্থতি বেশ ভালো। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৭ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের ভেতর মৃত এক ব্যক্তির করোনা পজিটিভ হয় এবং মুজিবনগর ও মেহেরপুর সদরে দুইজন করোনা পজিটিভ রোগী সুস্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাদের করোনা পজিটিভ হয়েছে তাদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সকল সুযোগ সুবিধাও তাদের দেয়া হচ্ছে। সেই সাথে সুস্থ হওয়া দু’জনকে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। 

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর