বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

৩৯

মুজিবনগরে চকলেট বিক্রেতা থেকে স্বাবলম্বী মিহিদুল

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৯  

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবরপাড়া গ্রামের ফজলুল মল্লিকের ছেলে মিহিদুল ইসলাম। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান তিনি। দুই ভায়ের মধ্যে মিহিদুল ছিলেন ছোট। 

২০০১ সালে বন্যার পর, তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ১০ বছর। তখন থেকেই তিনি মুজিবনগর কমপ্লেক্সের ভেতর দর্শনার্থীদের কাছে ঝাঁপিতে করে চকলেট বিক্রি করতেন। তিনি ধীরে ধীরে ব্যবসার জন্য কিছু টাকা জোগাড় করতে তিন বছর পর শুরু করেন ঝাল-মুড়ির ব্যবসা। ঝালমুড়ি বিক্রি করতে করতে আরও দুই বছর পার হয়ে যায়। পরবর্তীতে চকলেট বিক্রি ও ঝাল-মুড়ির ব্যবসা করে যে টাকা সঞ্চয় করেন, তা দিয়ে ২০০৫ সালের দিকে মুজিবনগরে একটা ছোট চায়ের দোকান দেন। সেখান থেকে শুরু হয় তার স্বপ্ন পূরণের পথে যাত্রা। 

২০০৭ সালের দিকে মুজিবনগর উপজেলা পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের (আরএসএস) আওতায় সুদমুক্ত একটি ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর কমপ্লেক্সে ঢুকতে মেইন গেটের সামনে একটি দোকান নিয়ে ফাস্টফুডের মালামাল তুলে ব্যবসাটাকে বড় করেন। আর এই ব্যবসার মাধ্যেমে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। আস্তে আস্তে তিনি ব্যবসায় ভালো লাভবান হতে থাকেন। তার এই ব্যবসার মাধ্যেমে বর্তমান তিনি স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। সেই সঙ্গে হয়ে উঠেছেন একজন সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি ফাস্টফুড, কসমেটিকসসহ সাতটি দোকানের মালিক। আর তার এই সকল দোকান থেকে আরও কয়েকজন যুবকের কর্মসংস্থান হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মুজিবনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রব জানান, আমাদের এখান থেকে উদ্যোগী ব্যবসায়ীদের পল্লী সেবা কার্যক্রম (আরএসএস) এর আওতায় সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এবং তার হাতে পল্লী সামাজিক কার্যক্রমের অর্থ স্টিম তুলে দেওয়া হয়। আর সেই ঋণের টাকাসহ তার কিছু গচ্ছিত টাকা দিয়ে সে নতুন করে একটি দোকান দেয়।

সমাজসেবা কর্মকর্তা আরো জানান, মিহিদুলের অক্লান্ত পরিশ্রম ও কোঠর চেষ্টায় সে বর্তমানে একজন সফল ব্যবসায়ী। আমি তার এই সফলতাকে সাধুবাদ জানায়। আমাদের ঋণ গ্রহীতাদের জন্য তার এই সাফল্য অনুকরণীয় হবে বলে আমি আশা করি।
 

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর