বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

১৯

মীর মশাররফ হোসেনের জন্মদিন পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৯  

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল, ঊনবিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম সাহিত্যিক, কালজয়ী উপন্যাস “বিষাদ সিন্ধু” রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের ১৭২তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

১৩ নভেম্বর (বুধবার) সকাল সাড়ে ৯ টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলা সাহিত্যের অহংকার মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

বাংলাদেশ জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ আয়োজিত স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া।

এ সময়ে তিনি বলেন, পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের এক শতাব্দী পর বিপন্ন বঞ্চিত মুসলমানরা যখন নতুন করে সাহসে বুক বেঁধে সামনে চলার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময় বাংলা গদ্যসাহিত্যে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো মীর মশাররফ হোসেনের আগমন। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি উপন্যাস, গল্প, কবিতা, নাটক প্রহসন, প্রবন্ধ রচনা করেছেন। সাংবাদিকতাও করেছেন। সে সময় কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত হতো ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ নামে একটি পত্রিকা। এ পত্রিকার সম্পাদক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার মশাররফকে খুব স্নেহ করতেন। তার প্রেরণায় মশাররফ ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’য় লিখতেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত কলকাতার ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। তৎকালীন কলকাতার বাবুদের ভিড়ে মীর মশাররফ হোসেন প্রথম বাংলা গদ্য সাহিত্যিক হিসেবে সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। 

সে সময়ে বাবুরা বলাবলি শুরু করেন, মুসলমানদের মধ্যে মীর মশাররফ হোসেন হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি বিশুদ্ধ বাংলা চর্চা করেছেন। তিনি তার প্রথম স্ত্রী আজিজুন নেহার নামের সাথে মিল রেখে মাসিক ‘আজিজন নেহার’ (১৮৭৪) নামে একটি পত্রিকা এবং পাক্ষিক ‘হিতকরী’ (১৮৯০) একটি পত্রিকা নিজ উদ্যোগে প্রকাশ করতেন। তিনি পত্রিকার দু’টি সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছেন।

তিনি বলেন, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, একটি বিশেষ যুগসন্ধিক্ষণে মীর মশাররফ হোসেন উপন্যাস রচনায় শিল্পী-চৈতন্যে যে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন তার প্রেক্ষিতেই পুঁথি সাহিত্যের গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক জীবন-সাহিত্যে পদার্পণের দরজা উন্মুক্ত করতে পেরেছিলেন। তিনি ইতিহাসকে তার শিল্প কুশলতার মাধ্যমে নবরূপদানে সক্ষম হয়েছেন। তিনি উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে ভাষা-বৈশিষ্ট্যের সর্বাধিক সিদ্ধি ও সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন।

সংগঠনের সদস্য সচিব সোলায়মান সোহেলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. শহীদুননবী ডাবলু, যুব ন্যাপ সমন্বয়কারী বাহাদুর শামিম আহমেদ পিন্টু, সংগঠনের নির্বাহী সদস্য বিশিষ্ট লেখক আলাউদ্দিন আলী, ছাড়াকার হাবিব রায়হান, আবদুল আলিম, হাসিবুল হাসান শান্ত প্রমুখ।

উল্লেখ্য, মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর পদমদীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ ও ধর্মবিষয়ক ৩৭টি বই লিখেছেন তিনি।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর