শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ৮ ১৪২৮   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ ডোজ টিকা আসছে শনিবার কুষ্টিয়ায় করোনা ও উপসর্গে আরও ১৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৫৭ ভারতে রেকর্ড ১.২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি মেহেরপুরে রাজনগর গ্রামবাসীর জন্য সৌদিপ্রবাসীর অ্যাম্বুলেন্স উপহার রবিবার থেকে ব্যাংক লেনদেন দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ‘টিকার সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৮ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার’
৩৮

মিরপুরে পরকীয়ার অভিযোগে যুবককে মারধরের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২১  

কুষ্টিয়ার মিরপুরে পরকীয়ার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম (২৭) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে স্থানীয় মাতব্বররা।

সোমবার (১২ জুলাই) মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিরপুর থানা পুলিশ তিনজনকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নওয়াব আলী ও আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক আলী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মালিহাদ ইউনিয়নের আশাননগর এলাকার সেন্টু আলীর ছেলে ইটভাটার শ্রমিক সাইফুল ইসলাম প্রতিবেশী আনসার সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হন। এ সময় প্রতিবেশীরা তাদের দুজনকে আটক করে। পরদিন রোববার সকাল ১১টায় আশাননগর মোড়ে গ্রাম্য সালিশ হয়। এ ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন বিচারের রায় ঘোষণা করেন। এ সময় সাইফুল ইসলামকে জুতোর মালা গলায় দিয়ে অর্ধেক গ্রাম ঘোরানো হয়। সেই সাথে ৩০টি লাঠির আঘাত এবং ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে পরকীয়ার কারণে আব্দুল কুদ্দুস তার স্ত্রীর সাথে সংসার করতে আপত্তি জানালে তাকে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে তালাক দেওয়ানো হয়। পরে স্থানীয়রা সাইফুলের সাথে তাকে বিয়ে দিতে চাইলে ঐ নারী আপত্তি জানায়। পরে তাকে মায়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুস আনসার সদস্য হিসাবে ঢাকায় চাকরি করেন। যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসারে মনোমালিন্য চলছিলো। এদিকে সাইফুল ভালোবেসে প্রথমে এক নারীকে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের দুই বছরের মাথায় স্ত্রী ও কন্যা সন্তান রেখে চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করে বিয়ে করে।

প্রত্যক্ষদর্শী আমিরুল ইসলাম বলেন, পুরো গ্রামের লোকজনের সামনে জুতোর মালা গলায় দিয়ে নেতারা সাইফুলকে ঘুরিয়েছে। সেই সাথে তাকে লাঠি দিয়ে অমানবিকভাবে পিটিয়েছে। দেশেতো আইন আছে, এমন গ্রাম্য ভাবে সালিশ করে শারীরিক নির্যাতন এ যুগে বিরল।

সমাজে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এ ধরনের বিচার করা উচিৎ বলে মনে করেন এলাকাবাসী। এমন বিচারের প্রচলন থাকলে অপরাধ অনেক কমে যাবে বলে ধারণা তাদের।

এ ব্যাপারে মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচারের নামে লাঠি দিয়ে মারধরের ভিডিও দেখে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে জুতোর মালাসহ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সাথে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর