বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭   ১২ শাওয়াল ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
৯২

বিশ্বমানের ভেন্টিলেটর তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশেই

স্বাস্থ্য ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২০  

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারি নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯)। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এটি কেড়ে নিয়েছে ৪৭ হাজার মানুষের প্রাণ। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় নয় লাখ মানুষ। বাংলাদেশেও এরই মধ্যে সংক্রমণ ঘটেছে এই ভাইরাসটির।

প্রাণঘাতী এই করোনার চিকিৎসায় অতি প্রয়োজনীয় একটি যন্ত্র হলো ভেন্টিলেটর। ভাইরাসটি যখন মানবদেহের ফুসফুসে প্রবেশ তখন এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে আক্রান্ত রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং তাকে ভেন্টিলেটরের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়।

কিন্তু করোনা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বের বহু দেশেই সংকট দেখা দিয়েছে অতি প্রয়োজনীয় এই যন্ত্রটির। যার প্রভাব পড়তে পারে আমাদের দেশেও। কারণ ১৬ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশে বর্তমানে ভেন্টিলেটর আছে মাত্র এক হাজার ২৫০টি। তাই এই সংকটের হাত থেকে রক্ষা পেতে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

যন্ত্রটি তৈরির কাজ করছে সেনাবাহিনী পরিচালিত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় – মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব স্যায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)।

এমআইএসটি এরই মধ্যে এটি তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পেয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে ঢাকায় অবস্থিত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এর ক্লিনিক্যাল টেস্ট শুরু হবে।

বাংলাদেশকে অতি উন্নত ও গুরুত্বপূর্ণ এই যন্ত্রটি তৈরিতে সহযোগীতা করতে এর পেটেন্ট, সফটওয়্যার, সোর্সকোর্ডসহ সব সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওমর ইশরাক।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেল কর্পোরেশন এবং ‘মেডট্রনিক’-এর চেয়ারম্যান তিনি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মেডিক্যাল যন্ত্র নির্মাতা মেডট্রনিক্সের সহায়তা নিয়েই দেশে ভেন্টিলেটর তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি) জানিয়েছে, দেশে তৈরির ফলে এর দাম যেমন কমবে, তেমনি অভ্যন্তরীন চাহিদা পূরণ করে রফতানিও করা যাবে।

এ ব্যাপারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘পরিস্থিতি যদি খারাপের দিকে যায় তখন আমাদের ভেন্টিলেটর খুবই প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশেরই কৃতি সন্তান ওমর ইশরাকের আগ্রহ ও সহযোগিতায় মেডট্রনিকের ভেন্টিলেটরের ডিজাইনিং, সোর্স কোর্ডসহ সব কিছু তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগ গ্রহণ করেছে। ওমর ইশরাক তার পেটেন্ট উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। টেসলা, ফোর্ডের মতো কোম্পানি ভেন্টিলেটর উৎপাদনে গিয়েছে। আমরা মেডট্রনিকের সহায়তায় দেশে ওয়ালটনসহ ডিজিটাল ডিভাইস নির্মাতা কোম্পানিগুলোর সহায়তায় শিগগিরই এটি তৈরি করতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভেন্টিলেটর তৈরিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়াও এফডিএস এবং ইউএর সার্টিফিকেশনের দরকার হয়, যেটি মেডট্রনিকের আছে। এতে আমাদের স্থানীয় উদ্ভাবকদের সক্ষমতা বাড়বে। ইলেকট্রনিক সামগ্রী তৈরির জন্য যেসব সক্ষমতা দরকার হয় তা ওয়ালটনসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আছে। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এটি উৎপাদন ও রফতানি করতে চাই। মেডট্রনিকের সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও আলোচনা হয়েছে। হায়দরাবাদে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় অফিস থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) অধ্যাপক মেজর ড. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘এটি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তরের একটি বড় সুযোগ। আমরা ভেন্টিলেটর সংযোজন নিয়ে কাজ শুরু করেছি। শিগগিরই আমরা অ্যাসেম্বলি এবং ক্লিনিক্যাল টেস্টে যাব। এরপর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে আমরা দেশীয় কম্পানিগুলোর মাধ্যমে ব্যাপক উৎপাদনে যাব।’

এদিকে ওয়ালটন সূত্র জানায়, নিজস্ব কারখানায় ওয়ালটন অক্সিজেন ভেন্টিলেশন যন্ত্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এসব জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি শুরু করবে ওয়ালটন।

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ বলেন, ওয়ালটন সব সময় দেশের মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। সে জন্য উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকারী ভেন্টিলেটর, পিএপিআর (পাওয়ার এয়ার পিউরিফায়ার রেসপিরেটর), অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ইউভি ডিসইনফেকট্যান্ট, সেফটি গগলস, প্রটেকটিভ শিল্ড, রেসপিরেটরি মাস্ক ইত্যাদি চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে কাজ করছে ওয়ালটন।

বর্তমানে এসব চিকিৎসা সরঞ্জামের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) এবং ডিজাইন নিয়ে কাজ চলছে। কারখানাসহ অফিস ছুটি থাকলেও এ কাজে নিয়োজিত আছেন ওয়ালটনের অর্ধশতাধিক প্রকৌশলী। তারা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশের জরুরি অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্র তৈরিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ওয়ালটনের আরেক নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম বলেন, ‘প্রয়োজনের তাগিদে আমরা ভেন্টিলেটর উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে মনে রাখতে হবে, এটি একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য। এটি উৎপাদন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা ভেন্টিলেটর উৎপাদনে যাব।

এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বে এখন ১০ লাখ ভেন্টিলেটরের চাহিদা আছে, এটি ক্রমেই বাড়ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আমরা দেশে তৈরি ভেন্টিলেটর রফতানিও করতে পারব।’

গবেষণা বলছে, যদি একজন কভিড-১৯ রোগী যদি অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রমের কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে তবে ওই সময় সামান্য পরিমাণ অক্সিজেন ও বাতাস ঘন ঘন সরবরাহ করতে হবে। হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) যেসব রোগীকে নেয়া হয় তাদের জন্য ভেন্টিলেটর ব্যবহার করা হয়, যা দিয়ে দ্রুত দেহের অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়া যায়।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা