শনিবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২১   মাঘ ২ ১৪২৭   ০১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
‘মালচিং পদ্ধতি’তে ক্যাপসিকাম উৎপাদনে লালটু মিয়ার সাফল্য কুষ্টিয়ায় আট ইটভাটাকে জরিমানা মেহেরপুরে বিএনসিসির উদ্যোগে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ প্রতি উপজেলায় থাকবে ৭ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাইডেনের প্রশাসনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত জাইন সিদ্দিক
৩৭

বিদ্যুতের আলোয় উদ্ভাসিত দৌলতপুরের পদ্মার দুটি চর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০২১  

সব মানুষের ঘরে বিদ্যুত্—এমন অনুপ্রেরণা ও সংকল্প নিয়ে এখন কাজ করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মার দুটি চর উদ্ভাসিত হলো বিদ্যুতের আলোয়। 

রোববার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার রামকৃঞ্চপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ের ১৩ হাজার পরিবারে নতুনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়।

রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সুইচ টিপে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করেন দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. আ. কা. ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ।

এ সময় সরওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন, প্রতিকুলতা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাত্র দুই বছরের মাথায় চরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পেরেছি। এছাড়া চরাঞ্চলের মানুষের যাতাযাতের জন্য রাস্তা নির্মাণ ও পদ্মা নদীর ভাগজোত পয়েন্টে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

বিদ্যুদের কল্যাণে চরের মানুষের জীবনধারায় আমূল পরিবর্তন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আসায় ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার মান অনেকে বেড়ে যাবে। তারা এখন অধিক মনোযোগ সহকারে পড়ালেখার প্রতি বেশি মনোযোগী হতে পারবে। আগে সন্ধ্যার পর হারিকেনের আলোতে বাচ্চারা পড়াশোনা করতো। এখন অনেক রাত পর্যন্ত বিদ্যুতের আলোতে লেখা পড়া করতে পারবে। রান্না-বান্নাও বিদ্যুৎ আসায় সহজ হবে।

এ বিষয়ে রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল প্রায় দেড়শ বছর আগে জনবসতি গড়ে ওঠে। এ চরাঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করে। ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এসব গ্রাম পদ্মা নদীর কারণে মূল ভু-খণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে নৌকাযোগে যাতাযাত সুবিধা থাকলেও শুকনো মৌসুমে এসব অঞ্চলে যাতায়তে নানা বিড়াম্বনা দেখা দেয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে চারিদিকে শুধু ধু-ধু বালুচরই চোখে পড়ে। এ সময় চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে গ্রামগুলো পরিণত হয় ভুতুড়ে জনপদে। আলোর ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় বাজারগুলোও প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। দিনে সূর্যের আলো থাকলেও রাতের অন্ধকার দূর করতে বিদ্যুতের আলো এই অঞ্চলের মানুষের কাছে ছিল স্বপ্নের মত। সেখানকার মানুষের দীর্ঘ দিনের সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রুপ নিয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে। বিদ্যুতের আলো পেয়ে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সোহরাব উদ্দিন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মহিউদ্দিন, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি রেজওয়ান আলী খান। এদিন চরাঞ্চলে ২২১টি সংযোগের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের যাত্রা শুরু হয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কে এম তুহিন মির্জা জানান, দুর্গম চর হওয়ায় সেখানে বিদ্যুতের লাইন স্থাপন ও মামলামাল পরিবরন খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। পদ্মা নদীর মাঝ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে লাইন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া চিলমারী এলাকায় একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। প্রথম পর্যায়ে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর দুই ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পরিবার বিদ্যুতের আওতায় আসবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর