বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২১ ১৪২৭   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
১২২

ফুলের চারা বিক্রি করে স্বচ্ছল কুষ্টিয়ার চাষিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২০  

ফুলের চারা উৎপাদনে কুষ্টিয়ার বিশেষ সুনাম রয়েছে। শীত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফুলের নার্সারিগুলোত চারার বেচাবিক্রি বেড়ে গেছে। কৃষদের ভাষ্য, প্রচলিত ফসলের চেয়ে ফুলের চারা বিক্রি করে বেশি লাভবান হচ্ছেন তারা। 

সরেজমিন জেলার বিভিন্ন নার্সারি ঘুরে দেখা যায়, হাইব্রিড জাতের গাঁদা, রক্ত গাঁদা, কুইন সুপার গাঁদা, বারমাসি গাঁদার চারা ১০ টাকা করে পিস বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও হাইব্রিড জাতের ডালিয়া খুচরা ১৫ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ১৫ টাকা, স্নোবল ২০ টাকা, ক্যালেন্ডুলা ১০ টাকা, জিনিয়া ১০ টাকা, ফ্লোস ২০ টাকা, গ্যাজোনিয়া ১০ টাকা, ডাইনথাজ ১০, রঙ্গমিক্স ১০ টাকা, দোপাটী ১০, স্টার ১০, পাপিয়া ২০, সিলভিয়া ১০, ফায়ার বল ১৩০, অপূর্বিয়া ৮০ টাকা, পানচাটিয়া ১৫০ টাকা, রক্তজবা ৮০ টাকা, রঙ্গন ৮৫ টাকা, চায়না টগর ২০ টাকা, কসমস ১০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। 

হাইব্রিড গোলাপের মধ্যে তাজমহল গোলাপ খুচরা ১০০ টাকা, রাণী গোলাপ ১০০ টাকা, বিশ্ব সুন্দরী গোলাপ ১০০ টাকা, ইরানি গোলাপ ২৫ টাকা, কাচা হলুদ, ঘিয়া, সাদা, জরিনা গোলাপ প্রকার ভেদে ১০০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও দেশি জাতের গোলাপ ১০ টাকা দরে খুচরা বিক্রি করা হচ্ছে।

মিরপুর উপজেলার লিমন নার্সারির মালিক পারভেজ হাসান জয় বলেন, এইসব ফুলের চারা ও বীজ যশোর গদখালী, ঝুমঝুমপুর, বাসুদেবপুর, বগুড়ার মহাস্থানগড় থেকে সংগ্রহ করা হয়। বছরের অন্য সময় ফুলের চারা তেমন বিক্রি হয় না। তবে শীত মৌসুমে ফুলের চারা বিক্রি হয় বেশি। ফুল চাষের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তবে সেখান থেকে সরকারি ভাবে কোনো সার-বীজ পাইনি। পেলে আরও লাভবান হাওয়া যেত।

মিরপুর জিয়া সড়কে অবস্থিত এসআর গার্ডেন সেন্টারের মালিক এ রহমান জানান, প্রায় চারমাস শীতকালীন ফুলের চারা ব্যাবসা হয়। এ বছর ফুলের চারার বেশ চাহিদা রয়েছে।

নার্সারিটিতে কর্মরত শ্রমিক মো. টুটুল হোসেন জানান, এখানে সারা বছরই কাজ করি। মালিকেরা লাভবান হওয়ায় আমারাও ভালোই আছি। 

ফুলের চারা খুচরা বিক্রেতা মো. আমজাদ হোসেন জানান, আমরা নার্সারি থেকে পাইকারি ফুলের চারা সংগ্রহ করে শহর এলাকায় বিক্রি করি। প্রতিদিন চারা বিক্রি করে দুইশ থেকে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে। এতে আমাদের সংসার ভালই চলে। 

জেলা নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল গণি সান্টু জানান, নার্সারি মালিকরা কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাই না। এমনকি কোনো ঋণ সুবিধাও নেই । সব কিছু নিজেদের অর্থায়নে করতে হয়। যা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।

কুষ্টিয়া নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম ওয়াসিফ আবির জানান, শীত মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার ফুলের চারা ক্রয়-বিক্রয় করা হয়।  

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস জানান, কুষ্টিয়ায় অনেক বেসরকারি নার্সারি রয়েছে। তবে সেগুলো কৃষি বিভাগের আওতার বাইরে। তবে জেলায় একটি সরকারি নার্সারি রয়েছে। কিন্তু সেটি আকারে অনেক ছোট।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর