মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

পরিচর্যার অভাবে মরে যাচ্ছে মুজিবনগরের আমগাছ!

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

শীত আসার সঙ্গে সঙ্গেই পর্যটকদের ঢল নামে মুজিবনগরে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে মেহেরপুরের মুজিবনগর এখন আকর্ষণীয় স্থান। তারা মুজিবনগর ভ্রমণ করে স্বাধীনতার পুরো ইতিহাসকে দেখে নিতে পারে। 

কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের সূতিকাগার সুমিষ্ট আমের জন্য বিখ্যাত মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননের বহু পুরনো আমগাছগুলো এবং বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার আলোকে ছয় স্তরবিশিষ্ট গোলাপ বাগানটি আজ পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হতে চলেছে। মারা গেছে বহু পুরনো অর্ধশত আমগাছ। ধ্বংস হতে চলেছে ছয় স্তরভিত্তিক গোলাপ বাগানটি।

জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা মুজিবনগর আম্রকানন ঘুরে দেখা যায়, সেখানে স্বাধীনতার স্মৃতি বহন করে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ। আর সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধটি রয়েছে মুজিবনগরের সুবিশাল আম্রকুঞ্জের মধ্যে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় দেশের প্রথম সরকার ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতার জন্য সেদিন এই মুজিবনগর আম্রকুঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক আমবাগান আজ পরিচর্যা ও অবহেলায় রুক্ষ। রুগ্ণ হয়ে গাছগুলো শুকিয়ে মরে যেতে বসেছে। একসময় যেখানে ২১শ আমগাছ ছিল এখন সেখানে ১১শ আমগাছ ক্ষুধার্ত শরীর নিয়ে কোনোরকমে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একসময় এই আমবাগান ইজারা দিয়ে বছরে কয়েক লাখ টাকা সরকারি রাজস্ব আয় হতো। এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই আয়ও কমে গেছে।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সরকার প্রতি বছর এ বাগান থেকে বিভিন্নভাবে লাখ লাখ টাকা আয় করলেও পরিচর্যা খাতে ব্যয় করে না।

অপরদিকে মেহেরপুরের মুজিবনগর কমপ্লেক্স এলাকাকে নানাভাবে অর্থবহ করতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মানচিত্রের পাশেই বঙ্গবন্ধুর ছয় দফাকে তুলে ধরতে ছয় ধরনের গোলাপ গাছ দিয়ে মানচিত্রের দু’ধারে সুশোভিত গোলাপ বাগান তৈরি করা হয়। ২০০৩ সালে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন থেকে গোলাপ চারা এনে নির্মাণ করা হয় এই বাগানটি। কিন্তু লোকবল ও পরিচর্যার অভাবে ধ্বংস হতে চলেছে বাগানটি। যে গোলাপ বাগানের শোভা না দেখে দর্শনার্থীরা বাড়ি ফিরত না সে বাগানের দিকে এখন আর কেউ আর ফিরেও তাকায় না।

এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গণি জানান, সরকার মুজিবনগরকে আরও জীবন্ত করতে এক হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর