মঙ্গলবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২২   মাঘ ৪ ১৪২৮   ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
পোশাক রপ্তানি: বড় বাজারে বড় প্রবৃদ্ধি আশা জাগাচ্ছে আরও ৯৬ লাখ ফাইজারের টিকা এলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের তথ্য গুজব: শিক্ষা মন্ত্রণালয় জীবননগরে কৃষি কাজে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘রাইস ট্রান্সপ্লান্টার’ গড়াই নদী খনন প্রকল্পে সুফল পাচ্ছে কুষ্টিয়ার বাসিন্দারা চুয়াডাঙ্গায় দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলেছে ২৬টি কমলাগাছ মেহেরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুজনের কারাদণ্ড
১১৯

টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি বিকাশে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারি ২০২২  

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অবদান ৫৩ শতাংশ হলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। গ্রামাঞ্চলের নারীরা প্রতিদিন গৃহস্থালির যাবতীয় কাজকর্মের পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবে কৃষিকাজে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছেন সবসময়। যদিও বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে অতীতের মতো কৃষির দাপট নেই, কিন্তু তারপরও গ্রামীণ অর্থনীতি এখনো কৃষিনির্ভর। 

কৃষি কাজে পুরুষের চেয়ে গ্রামীণ নারীর অবদান তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু এরপরও নারীদের কৃষক হিসেবে তেমন কোনো স্বীকৃতি নেই। কৃষিতে নারীর অবদানকে অবৈতনিক পারিবারিক শ্রম হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে সাধারণত। যদিও নারীরা খামার ও পরিবারের উত্পাদন কাজের জন্য দ্বিমুখী চাপ সহ্য করেন। গত দেড় দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রায় দেড় কোটি বাড়তি শ্রমশক্তি নতুন যোগ হয়েছে। যার অর্ধেকেই নারী। 

গ্রামীণ অর্থনীতিতে শ্রমশক্তি হিসেবে নিয়োজিত নারীরা মূলত কৃষিকাজ গবাদিপশু পালন, হাঁসমুরগি পালন, মত্স্য চাষ, শাকসবজি-ফলমূল উত্পাদন ইত্যাদি কৃষিসংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত। গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করে রাখা নারীদের অবদানের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন করা হয় না আলাদাভাবে। 

রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার অংশ হিসেবে কৃষককার্ড বিতরণ করা হলেও নারী কৃষকরা সেখানে অবহেলিত এবং বঞ্চিত রয়ে গেছেন বারবার। নারী কৃষিশ্রমিকদের প্রতি মজুরি বৈষম্য আজও অব্যাহত রয়েছে। যদিও নারী শ্রমশক্তির ৭০ শতাংশই কৃষি উত্পাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত বিভিন্ন কাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সবচেয়ে বড় কথা, ভূমি মালিকানায়ও নারীর সম-অধিকার নেই। বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও পদে পদে তাদের নানা বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়। প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কৃষিতে নারীর অবদানকে অবহেলা করার সাধারণ প্রবণতা থেকেই কৃষিতে নারীর অবদান স্বীকৃতি লাভ করছে না।

করোনা ভাইরাসের ঢেউয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে পড়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। গত বছরের সাধারণ ছুটির সময়ে গ্রামীণ কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র শিল্পগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পণ্য উত্পাদন প্রক্রিয়া যেমন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি উত্পাদিত পণ্য বিক্রিও করা যায়নি। ফলে টাকার প্রবাহ কমে গেছে। করোনার প্রভাব মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও গ্রামীণ অপ্রাতিষ্ঠানিক কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পগুলো চলতি মূলধনের জোগান পায়নি। কিছু প্রতিষ্ঠান পেলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া গ্রামীণ হাট-বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও চাহিদা অনুযায়ী ঋণের জোগান পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের কৃষি খাত। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। কৃষি উন্নয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাই খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মসংস্হান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউনের সময় গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে ছোট ছোট বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো হয়েছে। এ খাতে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর অব্যবহূত অর্থ দ্রুত বিনিয়োগ করার জন্য তদারকি বাড়ানো হয়েছে। গ্রামে ঋণের জোগান বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আলোকে গ্রামবান্ধব ছোট ছোট বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। চলতি অর্থবছরে গ্রামে বিনিয়োগ করার জন্য সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক মিলে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে কৃষিকাজে নিয়োজিত বিশাল সংখ্যার নারীদের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের অবদানকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। যদিও গ্রামাঞ্চলে কিছুসংখ্যক নারী নিজের আগ্রহে ও প্রচেষ্টায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি নানা ধরনের ব্যবসায় নিয়োজিত হয়ে আশাব্যঞ্জক সাফল্য অর্জন করেছেন। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ২৫ শতাংশ অবদান রাখার পরও এসএমই ব্যবসায় নারী উদ্যোক্তারা মূল ধারায় আসতে পারছেন না আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে। এ নিয়ে বারবার বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। সবাই নারীর ক্ষমতায়নে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যবসা পরিচালনার পথ সুগম করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। কিন্তু আজও শহুরে অনেক নারী উদ্যোক্তাই ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ যথাসময়ে না পাওয়ার কারণে তাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ব্যবসা উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে পারছেন না। 

বাংলাদেশের অর্থনীতি গত ৫০ বছরে আজকের যে সমৃদ্ধ পর্যায়ে পৌঁছেছে তার পেছনে পোশাক শিল্পখাতে নিয়োজিত বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমশক্তির অবদানের কথা বারবার আলোচিত হচ্ছে বটে। তবে পোশাক শিল্প ছাড়াও কৃষি কিংবা সেবাখাত, বিশেষ করে খামার বহিভূ‌র্ত কৃষি কিংবা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে গ্রামীণ নারীদের শক্তিশালী ভূমিকা পালনের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার সময় এসেছে। যদি তারা বাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পান, তাহলে এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরো শক্তিশালী অবদান রাখতে পারবেন, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। 

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর