মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

২০৬

টিকটক যখন আত্মহত্যার কারণ!

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯  

সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোনের আলোচিত একটি অ্যাপের নাম 'টিকটক'। যেখানে তারকাদের কণ্ঠের অনুকরণে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো গানে কারোর নিজস্ব ভিডিও সংযোজন করে ভাইরাল করা হয়। সচরাচর দর্শকদের বিনোদন দেয়ার জন্যই টিকটকের সাহায্যে ভিডিও আপলোড করা হয়। কিন্তু এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর জন্য সেই আপলোডকারীদের জীবনের ইতি টানতে হয়েছে! আবার কিছু ক্ষেত্রে আপলোডকারীকে বহু হয়রানির মধ্যে যেতে হয়েছে। এমনই কিছু ঘটনা সম্পর্কে চলুন জেনে আসি।

 

টিকটক যখন আত্মহত্যার কারণ: ভারতীয় এক যুবক মেয়েদের কাপড় পরে মেয়েদের রূপে অভিনয় করে সেই ভিডিও টিকটকের দ্বারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে৷ সাধারণ লোকজন অর্থাৎ দর্শকরা যখন এই ছেলেটিকে টিকটকের ভিডিওতে মেয়েদের রূপে এভাবে অভিনয় করতে দেখে, তখন তাকে নিয়ে মজা করতে শুরু করে দেয়। এবং লোকজনের মজা অপমানের এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো যেটা সে মেনে নিতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে ছেলেটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে যখন পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে জ্ঞাত হয় তখন জানা যায় ছেলেটির পরিবার, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও ছেলেটির অনেক ফ্যান, ফলোয়ার্স তাকে মজা করে বিভিন্নভাবে অপমান করতো।

ইয়েঙ্কের কারাবরণ: ইয়েঙ্ক নামের চায়নার লাইভ স্ট্রিমিং গার্ল তার সুরালো কন্ঠে লাইভ গান গেয়ে টিকটকে ভিডিও বানিয়েছিল এবং লক্ষ মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল। তথ্য অনুযায়ী ইয়েঙ্কের ভাইরাল হওয়াটা এক বছরের বেশি হয়নি, তবুও একটি ভিডিও সাইটের পক্ষ থেকে ইয়েঙ্কের ৭ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রজেক্ট মিলেছিলো। ইয়েঙ্ক তার নিজের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে এবং সারাদেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সমস্যা তৈরি হয় তখন যখন ইয়ং চায়নার রাষ্ট্রীয় সঙ্গীতটি একটু ভিন্নভাবে গেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। যেটি দর্শকের মনে সাড়া জাগানোর বিপরীতে চায়নার মানুষেরা খুবই অপছন্দ করে। চায়না পুলিশের বরাত অনুযায়ী এটি তাদের রাষ্ট্র গানের একটি বিরাট অপমান। এই কারণেই তাকে পাঁচ দিন জেলখানায় কাটাতে হয়েছিল এবং তার মুক্তির পর সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকে সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমাও চাইতে হয়েছিল।

ইসমে তেরা ঘাটা মেরা কুছ নেহি যাতা: যদিও এই গানটি ভারতীয়দের কাছে প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। কিন্তু এই গানটি আরো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পায় যখন কয়েকজন ভাইরাল কন্যা ভিন্নভাবে এই গানটির ভিডিও টিকটকে প্রকাশ করে। এই গানটিতে মেয়েরা এতই অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে যেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই বেশ অসামাজিক এবং নিন্দনীয় ছিল। তাদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দিয়ে এই গানটিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থাপন করার কারণে পরবর্তীতে দর্শক এবং বিভিন্ন মানুষের অভিযোগের তীর এই মেয়েগুলোর দিকে দেখানো হয়। পুলিশ পরবর্তীতে তাদের গ্রেফতার করতে চায়, যদিও এই গ্রেফতার করতে যাওয়ার পেছনে অনেক গুঞ্জন আছে বলে অনেকে দাবি করে।

পাঞ্জাবের চিফ মিনিস্টারের মানহানি: একজন টিকটক ইউজার ভারতীয় প্রদেশ পাঞ্জাবের চিফ মিনিস্টার নরেন্দ্র সিংয়ের এর ভিডিও প্রকাশ করেছিল। যে ভিডিওতে চিফ মিনিস্টারকে খুব ধীরগতিতে কিছু বলতে দেখা যাচ্ছিলো। এই ভিডিও দেখে এটি সহজে ধারণা করা যায়, হয়তো তিনি মদ্যপ কিংবা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন কিন্তু সত্যিকার অর্থে এসবের কিছুই ছিল না। এই ভিডিওটিকে এডিটিং করে টিকটকে ছড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেই আপলোডকারী ধারণা করতে পারেনি এই ছোট্ট একটি ভিডিও তার জীবনে বিপদ ডেকে আনতে যাচ্ছে। এই ভিডিওটি চিফ মিনিস্টারের ভাবমূর্তি নষ্টকারী একটি ভিডিও হিসেবে গণ্য করে বিভিন্ন ধারায় সেই ছেলেটিকে শাস্তির বিধান দেয়া হয়।

চায়নাতে মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির লোগো: চায়নাতে মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির লোগো খুলে ফেলার ভিডিও টিকটকে ভাইরাল করা হয়েছিল। এরমধ্যে অনেকে নিজের মার্সিডিজের লোগো খুলে ভিডিও প্রকাশ করেছিল এবং সেটিকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারও করছিল আবার কেউ কেউ অন্যদের গাড়ির লোগো চুরি করে সংগ্রহ করছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হুয়োং নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়, যার ঘরে ১২টি মার্সিডিজের লোগো পাওয়া গিয়েছিল! এরমধ্যে একটি ছিল তার নিজের বাকিগুলো সে অন্য পন্থায় অর্থাৎ চুরি করে সংগ্রহ করেছিল!

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর