মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৭ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
সারাদেশে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা ১৩ জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ : মোংলা-পায়রা বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত সাকিব আল হাসান ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কারণে আজ জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা স্থগিত শ্রমিকলীগের সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা

জ্ঞানের বাতিঘর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০১৯  

আধুনিক যুগে ইসলামি শিক্ষার উন্নতি সাধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা এক কথায় অপরিসীম। সেই লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এটি খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলায় অবস্থিত।

কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি এবং জীব বিজ্ঞান অনুষদে স্নাতকের পাশাপাশি দেশে শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ধর্মতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

১৯৭৭ সালে মক্কায় ওআইসির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের এক সম্মেলনে মুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২২ নভেম্বর ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে ১৭৫ একরে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

এরপর ১৯৮৬ সালের ২৮ জুন ৩ টি অনুষদের অধীনে ১৭ টি বিভাগ নিয়ে এটি একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৮ টি অনুষদের অধীনে ৩৪ টি বিভাগ রয়েছে।

এখানে বিশ্বমানের ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত শিক্ষকবৃন্দ, যারা অত্যন্ত সুচারুভাবে পাঠদান করে থাকেন। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। আবিষ্কার-গবেষণা সব ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের নাম বিশ্বের দুয়ারে পৌঁছে দিচ্ছে।

'খাদেমুল হারামাইন বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ' গ্রন্থাগারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র। সেখানে মোট বইয়ের সংখ্যা ৮৫৩৪৫ ভলিউম। একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি রয়েছে দেশ-বিদেশের পত্রিকা, ম্যাগাজিন এবং অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালসমূহ।

শুধু জ্ঞানচর্চাই নয়, আত্ম-উন্নয়নমূলক ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য রয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। ডিবেটিং ক্লাব, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, বুনন, তারুণ্য, রক্তিমা, ক্যাপ, দৈনিক অধিকার বন্ধুমঞ্চ এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ক্যাম্পাস ভিত্তিক সাংবাদিকতার সুযোগ। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় খেলাধুলাতেও এর অবস্থান উল্লেখযোগ্য।

বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সাথে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সমন্বয় সাধনই বিশ্ববিদ্যালয়টির মূল লক্ষ্য। আর এ জন্যই নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

লেখক: শিক্ষার্থী, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর