বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

২৭০

জমে উঠেছে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ কাপড়ের হাট

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১ জুন ২০১৯  

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাপড়ের বাজার কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ কাপড়ের হাট। ঈদ উপলক্ষে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিকিকিনি। খুচরার পাশাপাশি চলছে পাইকারি বিক্রি। দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় কুষ্টিয়াসহ পার্শ্ববর্তী জেলার ক্রেতারা এখানে আসেন কেনাকাটা করতে। এছাড়াও পাইকারি বাজার হওয়ায় আশেপাশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে আসছেন পোশাক কিনতে। গজ কাপড়,থান কাপড়,পাঞ্জাবির কাপড়,থ্রিপিস,শাড়ি,সুতির কাপড়,জাকাতের শাড়ি,মশারি,কোর্ট,প্যান্ট ও শার্টের পিস,লুঙ্গি,রেডিমেড পোশাক পাওয়া যাচ্ছে পোড়াদহ কাপড়ের হাটে।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানগুলোতে চলছে বেচাকেনা। প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তিনদিন পোড়াদহ কাপড়ের হাট বসে থাকে। এ হাটে প্রায় ২ হাজার দোকান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এখানে আসেন কেনাকাটা করতে।

পোড়াদহ ভরসা বস্ত্রালয়ের মালিক মাহমুদা খানম রত্না বলেন‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মানুষের ভিড় একটু বেশি। আর বেচাবিক্রিও হচ্ছে ভালো।’ তিনি জানান,এবার ঢাকাই মসলিনমিরপুরের কাতান ওগাউনের চাহিদা বেশি। গাউন কিনতে চাইলে আড়াই হাজার টাকা থেকে শুরু করে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত পড়বে দাম। ঢাকাই মসলিন শাড়ি বিক্রি হচ্ছে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও মিরপুরি কাতান শাড়ি সাত হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সেতু গার্মেন্টসের মালিক আমজাদ হোসেন বলেন‘হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো হাওয়ায় প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এখানে কাপড় কিনতে আসেন। পোড়াদহ বাজারের সবচেয়ে বড় শাড়িথ্রিপিসশার্ট পিসপাঞ্জাবির মোকাম অঙ্গশোভায় গিয়ে দেখা যায়,দোকানে প্রচণ্ডভিড়। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মশান থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন‘আমি প্রতি বছর পরিবারের জন্য এখান থেকেই কেনাকাটা করি।’ জাকাতের কাপড় কিনতে পোড়াদহ মার্কেটে এসেছেন কুষ্টিয়া শহরের ইয়াসিন আলী। তিনি বলেন,‘দামে সাশ্রয়ী হবে বলে এখান থেকে কিনি।’ মেহেরপুর থেকে আসা পাইকারি কাপড় ব্যবসায়ী সাব্বির ইসলাম জানান,এখানে বেশ ভালো কাপড় কম দামে পাওয়া যায়।

পোড়াদহ কাপড় হাট পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি মো. মুনি খাঁ বলেনপোড়াহদ ঈদের বাজার জমে উঠেছে। এবার বিক্রিও বেশ ভালো। আশা করি ঈদের শেষ কয়েক দিন বিক্রি আরও বাড়বে।’ কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিরপুর সার্কেল) ফারজানা শরীফ বলেন‘পোড়াদহ হাটে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে নারী পুলিশ সদস্যেসহ দশজন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। কারণ এখানে মহিলা পকেটমার থাকতে পারে এমন অভিযোগ ছিল ব্যবসায়ীদের। এছাড়াও হাট এলাকা ১৬টি সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ যেহেতু বড় এলাকা, সে কারণে সিসি ক্যামেরা আরও বাড়ানো হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর