বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৯   ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তিতে আসন সংকট হবে না : শিক্ষামন্ত্রী জামানত নয়, কৃষিঋণে কৃষকের এনআইডি যথেষ্ট: কৃষিসচিব নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকানো চুয়াডাঙ্গার শ্রাবন্তী জিপিএ-৫ পেয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা কুষ্টিয়ার এক উপজেলাতেই ২৮টি অবৈধ ইটভাটা!
৪৬

চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে খেজুরের গুড় তৈরির প্রক্রিয়া

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২২  

শুরু হয়েছে খেজুর গুড় তৈরির প্রক্রিয়া। এখন এ জেলার মাঠে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে। আগুনের তাপে তা রস জ্বাল দিয়ে গুড় ও উৎকৃষ্ঠ মানের পাটালি তৈরি করা হচ্ছে। আর এই গুড় তৈরির প্রক্রিয়া চলছে কৃষকদের বাড়িতে ও মাঠে। এ জেলায় তৈরির হয় ভেজাল মুক্ত ও চিনি মুক্ত গুড়। এ জেলার গুড় সারা দেশে যায় এবং এ জেলার গুড় খ্যাতি রয়েছে বিদেশ পর্যন্ত। এখন গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে এ জেলার গুড় উৎপাদনকারি কৃষকরা।

জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা আবহমান এই বাংলার প্রকৃতিতে জেকে বসেছে পুরোদমে শীত। তাই সকাল হলে এ শীতকে উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছে। এরপর মাঠের কোথাও ফাঁকা জায়গায় রস আগুনের তাপে জ্বাল দিয়ে গুড় প্রস্তত করা হচ্ছে। এরপর প্রস্তত করা হচ্ছে পাটালি। আর এই গুড় তৈরির প্রক্রিয়া শুধু মাঠে নয়। কৃষকের বাড়িতে বাড়িতে গৃীহিণিরা গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

প্রতিদিন কৃষকরা খেজুর গাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ ভাড় রস সংগ্রহ করছে। আর এই থেকে গুড় তৈরির করা হচ্ছে ৮ থেকে ১০ কেজি। আর কয়েদিন পর থেকে আরো বেশি গুড় উৎপাদন করা যাবে বলে বলছে এ জেলার কৃষকরা। এখন বাজারে এই কৃষকের গুড় বিক্রি কেজি প্রতি ২৫০ টাকা টাকা করে এবং গুড়ের পাটালি বিক্রি করা হচ্ছে ২৬০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা করে। এতে খুশি প্রকাশ করছে এ জেলার গুড় উৎপাদনকারি কৃষকরা। তবে এ জেলার গুড়ের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা মিটাতে সক্ষম হবে। ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গায় গুড় বাজারে আসা শুরু করেছে। তাই এই সুস্বাদু গুরের বিক্রির হাঁকডাঁক বেড়েছে দেশের সব থেকে বড় গুরের হাঁট চুয়াডাঙ্গা সৌরজগঞ্জে। সকাল হলে বেড়ে যায় গুড় বিক্রির মহা ব্যস্ততা। তাই প্রতিবারের মতো এবারো চুয়াডাঙ্গা গুড়ের চাহিদা ব্যাপক।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, এবার এ জেলায় খেজুর গাছ আছে ২ লাখ ৬৬ হাজার এ থেকে গুড় উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে আড়াই হাজার মেট্রিক টন। এবার এ লক্ষমাত্রা পুরণ হবে।

কথা হয় গুড় উৎপাদনকারি এক কৃষক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বেলগাছি গ্রামের সাইফুল মিয়ার সাথে। জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এখন আমরা গুড় তৈরি করছি। আমাদের গুড়ের কোনো চিনি মিশানো হয় না। একদম ভেজাল মুক্ত সুস্বাদু গুড় যা খেতে খুব স্বাদ। প্রতিবার আমাদের গুড়ের চাহিদা থাকে ব্যাপক। তাই আমরা গুড় তৈরি করি বেশি করে। আমাদের গুড় বাজারে বিক্রি করা শুরু হয়ে গিয়েছে।

আরেক গুড় উৎপাদনকারি কৃষক ইয়াছিন রহমান বলেন, আমাদের বাজারে এখন গুড় বিক্রি করা হচ্ছে কেজি প্রতি ২৫০ টাকা আর পাটালি ২৭০ টাকা করে। এতে আমাদের ভালো চলছে। আর কয়েকদিন পরে আমরা আরো বেশি গুড় তৈরি করতে পারবো। আমরা এই গুড় তৈরি প্রতিবার জীবাকা নির্বাহ করি। আমরা এই গুড় তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠায়। একই সাথে দেশের বাইরে গুড় চলে যায়।

এ বিষয় কথা হয় চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, আমাদের চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা গুড় তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এবার আমাদের ভেজাল মুক্ত গুড় তৈরি হচ্ছে একই সাথে তৈরি হচ্ছে উৎকৃষ্ঠ মানের পাটালি। এ জেলার গুড়ের চাহিদা থাকে ব্যাপক। তাই প্রতিবারই চাহিদা মিটানোর জন্য সক্ষমতা পুরণ হয় যায়। তাছাড়া এ জেলার গুড় অনেক সুস্বাদু এবং খেতেও অনেক মজা। যে কারণে চাহিদা থাকে ভরপুর। এই গুড় উৎপাদন করে যে টাকাটা পাই কৃষকরা এতে তাদের ভালো ভাবেই চলে যায়। আর কয়েকদিন পর থেকে গুড় উৎপাদন আরো বাড়বে বলে মনে আসা করা যায়।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর