মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

চুয়াডাঙ্গায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম!

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

পেঁয়াজ ও লবণের পর গত কয়েকদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে চুয়াডাঙ্গার চালের বাজারে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি প্রায় ৭-১০ টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতি মণে চালের দাম বেড়েছে ৮০ থেকে ৩২০ টাকা। এদিকে চালের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

চালকল মালিকদের দাবি, ধানের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাল উৎপাদনের খরচও বেড়ে গিয়েছে। প্রতি মণ মোটা ধান ৬০ থেকে ৮০ এবং সরু ধান ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দরে কিনতে হচ্ছে। চাল উৎপাদনের পর খরচ সমন্বয় করতে গিয়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের স্টেশনসংলগ্ন চালপট্টি ও বড়বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরু চালের দাম ২৫ কেজির বস্তায় ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে মিনিকেট বিক্রি হতো ৯৫০ টাকায়, তা এখন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ টাকায়।

আগে বাসমতী প্রতি বস্তা বিক্রি হতো ১ হাজার ৫০ টাকায়, তা এখন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। ব্রি-২৮ পুরোনো আগে বিক্রি হতো ৮৫০ টাকায়, তা বেড়ে এখন হয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা।

মোটা চাল হিসেবে পরিচিত স্বর্ণা (৫০ কেজির বস্তা) আগে ১ হাজার ২৫০ টাকায়, বর্তমানে ১ হাজার ৩৫০ এবং খাটোবাবু আগে ১ হাজার ৪০০, বর্তমানে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার চালপট্টিতে খুচরা দোকানগুলোতে পাইকারি বাজারের তুলনায় কেজি প্রতি চাল এক থেকে দেড় টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরোজগঞ্জ মোকামের চাল উৎপাদনকারী জহুরুল ইসলাম জানান, গত দুই থেকে তিন সপ্তাহে ধানের দাম প্রতি মণে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাড়তি দামে ধান কিনে কম দামে চাল বিক্রি সম্ভব নয়।

চাল ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার চলতি আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের ঘোষণা দেওয়ার পর বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবদুল্লাহ জানান, প্রতিবছরই এ সময় চিকন চালের মূল্যবৃদ্ধি পায়। তবে মোটা চালের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে।

এদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, ২’শ থেকে ২’শ ১০ টাকায় পেঁয়াজ কিনে খুচরা ও পাইকারি বাজারে ২’শ ১০ থেকে ২’শ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা। পাইকারি ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে কেনা মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। চিকন চালের বাজার আরো চড়া। ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে পাইকারি কেনা চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে। তবে মূল্যবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে সঙ্গত কোন উত্তর নেই খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে। তাদের মতে, সারাদেশের বাজার যেমন চলছে, আমাদেরও তেমন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে যারা পেঁয়াজ, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করে বাজারে কারসাজি করছে তাদের ব্যাপারে প্রশাসনিক ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর