বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

৪১

চার লেন করার উদ্যোগ ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০১৯  

দেশের সব জাতীয় মহাসড়ক পর্যায়ক্রমে চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা, ঢাকা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা ও এলেঙ্গা-রংপুর-বুড়িমারী চার লেনের কাজ চলছে। ঢাকা-সিলেট-তামাবিল চার লেন করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এবার ভাঙ্গা থেকে যশোর হয়ে বেনাপোল পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেন করার অংশ হিসেবে জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও পরিষেবা সংযোগ লাইন স্থানান্তরে সাপোর্ট প্রকল্প নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর। এজন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ১৫৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করেছে সওজ। সরকারি অর্থে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি মূল প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক অর্থায়ন খুঁজছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

ডিপিপির তথ্যমতে, ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল চার লেন মহাসড়কের দৈর্ঘ্য হবে ১৩৩ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার। আর এ চার লেন নির্মাণে জমির দরকার হবে ৩৮৫ দশমিক ৩২ হেক্টর। এর মধ্যে ফরিদপুরে ১৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, গোপালগঞ্জে ২৬ দশমিক ৩০, নড়াইলে ২৯ দশমিক ১০ ও যশোরে ৬১ দশমিক ৮৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে দুই হাজার ৯২০ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর বাইরে পরিষেবা সংযোগ লাইন স্থানান্তরে ব্যয় হবে ২২৫ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য অংশে বলা হয়েছে, এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক করিডোর, সাসেক ও সার্ক করিডোর তথা উপআঞ্চলিক করিডোরভুক্ত হওয়ায় ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ জরুরি। এর মধ্যে সাপোর্ট প্রকল্পটির মেয়াদকাল ধরা হয়েছে আগামী বছর জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ৩০ মাস।

সাপোর্ট প্রকল্পটির ব্যয় বিশ্লেষণ অংশে চলমান ও সমাপ্ত বিভিন্ন চার লেন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ব্যয়ের তুলনা দেখানো হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে, ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল চার লেন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে হেক্টরপ্রতি ব্যয় সাত কোটি ৫৮ লাখ টাকা। যদিও ঢাকা-সিলেট-তামাবিল চার লেন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে হেক্টরপ্রতি ব্যয় হচ্ছে আট কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আর ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পে এ ব্যয় ছিল ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা।

এদিকে ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল চার লেন প্রকল্পে পরিষেবা সংযোগ লাইন স্থানান্তরে হেক্টরপ্রতি ব্যয় ৫৮ লাখ টাকা। ঢাকা-সিলেট-তামাবিল চার লেন প্রকল্পে এ ব্যয় হচ্ছে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পে তিন কোটি ১৯ লাখ টাকা। যদিও বর্তমানে জমি অধিগ্রহণ খাতে ক্ষতিপূরণে সরকার কর্তৃক মৌজা রেইট তিনগুণ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো পর্যায়ক্রমে চার লেন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল চার লেন করার জন্য অর্থায়ন খোঁজা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে জমি অধিগ্রহণ ও পরিষেবা সংযোগ লাইন স্থানান্তরে পৃথক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ বিলম্বিত হলে মূল প্রকল্প বাস্তবায়ন আটকে যায়। তাই আগেই জমি অধিগ্রহণ করে দুই পাশে সীমানা পিলার দিয়ে চিহ্নিত করা হবে। সাপোর্ট প্রকল্প সম্পন্ন হলে মূল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর