মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

২১

গর্ভাবস্থায় বিমানে ভ্রমণ : কতটা নিরাপদ?

স্বাস্থ্য ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

অনেকেই বিমানে ভ্রমণ করতে ভয় পান। আর সেটা যদি হয় গর্ভাবস্থায়, তাহলে বাস্তবিকভাবেই শরীর ও মনের ওপরে বাড়তি প্রভাব ফেলে দেয়। আজ আলোচনা করব গর্ভাবস্থায় বিমানে নিরাপদে ভ্রমণ করার সহজ কিছু উপায় নিয়ে- 


গর্ভাবস্থায় বিমানে ভ্রমণ করা কখন নিরাপদ?

অনেকে না চাইলেও তাকে গর্ভাবস্থায় বিমানে ভ্রমণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সবচাইতে উপযোগী ও নিরাপদ সময় হিসেবে চিকিৎসকেরা ১৩-২৮ সপ্তাহকেই ধরে থাকেন। এই সময়টিকে সেকেন্ড ট্রাইমেস্টার বলা হয়। সেকেন্ড ট্রাইমেস্টারে প্রথম ট্রাইমেস্টারের বমিভাব, মর্নিং সিকনেস ইত্যাদি কমে আসে। আর পরবর্তী সময়ের মতো পেটের আকৃতিও খুব বেশি বেড়ে যায় না। 

তাই সবমিলিয়ে এই সময় ভ্রমণ করলেই সেটা মা ও অনাগত শিশুর জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সহজ এবং নিরাপদ হয়। গর্ভপাতের সম্ভাবনাও এই সময়ে কম থাকে। তবে তারপরেও যদি সেকেন্ড ট্রাইমেস্টারে ভ্রমণ করতে চান, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন এবং তারপরেই সিদ্ধান্ত নিন। 


এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ব্যাপারগুলো সম্পর্কে খেয়াল রাখুন-


১। নিয়মগুলো পড়ে নিন- 

প্রত্যেকটি বিমানেরই গর্ভাবস্থায় কোনো নারীকে বিমানে বহন করা যাবে কি না, সেটা নিয়ে কিছু নিয়ম থাকে। আপনি যে বিমানে ভ্রমণ করতে যাচ্ছেন তাদের নিয়মগুলোও তাই দেখে নিন একবার। সাধারণত, ৩৬ সপ্তাহের বেশি সময় চলে গেলে গর্ভবতী নারীকে বিমানে যাতায়াতের অনুমতি দেয় না। তবে খুব বেশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসার ইনস্যুরেন্স এবং চিকিৎসকের অনুমোদন পত্র দেখিয়ে আপনি বিমানে ভ্রমণ করতে পারেন। 

২। ভ্রমণের আগে পরীক্ষাগুলো করুন- 

বিমানে ভ্রমণের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে, এই কাজটি আপনার জন্য কতটা সঠিক হবে। বিশেষ করে, আপনার যদি ডায়াবেটিস বা হাঁপানির মতো সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে ব্যাপারগুলো নিয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। বিমানে ভ্রমণের সময় সাথে রাখুন-


কমপ্রেশন স্টকিং- 

বিমানে ভ্রমণের সময় মা ও শিশুর শরীরের রক্ত চলাচলকে স্বাভাবিক রাখতে সঙ্গে রাখুন কমপ্রেশন স্টকিং। থ্রম্বোসিস, ভেরিকোজ ভেইনসের মতো সমস্যাগুলো থেকেও মুক্ত থাকতে পারবেন আপনি এই পদ্ধতিতে।


গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ- 

বিমানে উপরে ওঠার সময় আপনার গ্যাস্ট্রিকের চাপ বেড়ে যেতে পারে। এতে করে মায়ের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সাথে রাখুন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ।


বমি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ- 

গর্ভাবস্থায় বিমানে ভ্রমণ করলে গা গুলিয়ে ওঠা, বমি হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য সাথে রাখুন প্রয়োজনীয় সব ওষুধ।

তবে শুধু এই ব্যাপারগুলোই নয়, ভ্রমণের আগে দেখে নিন আপনার গন্তব্যস্থল। ভালো করে জানুন যে, কোনো সমস্যায় ঠিক কোথায় দ্রুত সাহায্যের জন্য যেতে পারবেন আপনি। চেষ্টা করুন এমন একটি আসন বুক করতে যেখান থেকে বাথরুম এবং অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করা সহজ। যদি কোনো টিকা নেওয়ার থাকে, সেগুলোও আগে থেকেই নিয়ে নিন। যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে যদি কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব থাকে, সেক্ষেত্রে আগে থেকে প্রতিষেধক নিয়ে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকাই ভালো।


বিমানে ওঠার পর যা করবেন- 


বিমানে ওঠার পর নিচের ব্যাপারগুলো মাথায় রাখুন-


১। নির্দিষ্ট কিছু খাবার এড়িয়ে চলুন। যে খাবারগুলো গ্যাস্ট্রিক বাড়াতে সাহায্য করে সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

২। গর্ভাবস্থায় এক স্থানে অনেকক্ষণ বসে থাকা স্বাস্থ্যকর নয়। তাই নিরাপত্তা মেনে নির্দিষ্ট সময় পরপর একটু হাঁটাহাঁটি করুন।

৩। সিট বেল্ট ঠিকভাবে পরুন। সিট বেল্ট আপনার পেটের নিচে পরুন। পেটের মাঝামাঝি পরলে সেটি আপনার ও আপনার সন্তানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। 

৪। বিমানে ভ্রমণের সময় প্রচুর পানি পান করুন। অন্যথায় আপনার মধ্যে দুর্বলতা, জ্ঞান হারানোসহ নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।  


বিদেশে ভ্রমণ করছেন কি?

আপনি যদি গর্ভাবস্থায় বিদেশে ভ্রমণ করার চিন্তা করে থাকেন, সেক্ষেত্রে বাড়তি কিছু কাগজপত্র তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে আপনাকে। শেষ সময়ের জন্য ফেলে না রেখে আগেভাগেই কাজগুলো সেরে নিন।

গর্ভাবস্থায় বিমানে ভ্রমণ করা আপনার জন্য হতে পারে সম্পূর্ণ নতুন আর অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। এই সময়টাকে উপভোগ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নিন। নিজেকে সুস্থ রাখুন। এতে করে যেমন আপনি সুস্থ থাকবেন এবং ভ্রমণ উপভোগ করবেন, তেমনই উপভোগ করবে আপনার অনাগত সন্তানও।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা