বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
৭৫

খোকসায় গড়াই নদীতে অসময়ের ভাঙন!

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২০  

গড়াই নদীতে অসময়ের ভাঙনে ওসমানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প ও খোকসা শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনকবলিত আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ নদীতীরের কয়েশ' পরিবার আশ্রয়হীন হতে চলেছে।

পদ্মার অন্যতম প্রধান শাখা গড়াই নদী। নাব্য কমে যাওয়ায় নদীটির খোকসা এলাকার বেশিরভাগ অংশে চর পড়ে শুকিয়ে গেছে। শুস্ক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে খোকসা উপজেলা সদরের বাজার রক্ষা বাঁধ ও ওসমানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়। গত দুই সপ্তাহে এ প্রকল্প ও কৃষকদের প্রায় ৫০ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। নদীতে চলে গেছে গাছগাছালিও। 

গত বৃহস্পতিবার রাতের বৃষ্টিতে এ প্রকল্পের কমিউনিটি সেন্টারের নিচের মাটি নদীতে চলে গেছে। প্রায় ৫০ ফুট লম্বা টিনশেড পাকা ঘরটি নদীর মধ্যে ঝুলছে। যে কোনো মুহূর্তে কমিউনিটি সেন্টারটি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। 

জানা যায়, নদী ভাঙনকবলিত এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩০টি ভূমিহীন পরিবারের কয়েকশ' মানুষ বসবাস করছেন। একইভাবে খোকসার শহর রক্ষা বাঁধের দুই পাশের চরে বসবাসকারী কয়েকশ' পরিবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এসব পরিবার তিন যুগ আগে থেকে বাঁধটির দুই পাশের চরে বসবাস করে আসছে। নদীভাঙন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করার পর থেকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভাঙন রোধে বাস্তব কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আশ্রয়ণের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন।

ভাঙনকবলিত ওসমানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন গিয়ে বিভিন্ন বয়সীর সঙ্গে কথা হয়। নদীভাঙন সম্পর্কে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভূমিহীন মনজুরা খাতুন, কাজলী খাতুনসহ অন্যরা জানান, তারা প্রায় ১৬ বছর ধরে এই প্রকল্পের ঘরে বসবাস করছেন। তাদের সরকার জমি ও ঘর দিয়েছে। এতদিন নদীভাঙন ছিল না। এ বছর নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনের শুরু থেকেই তারা উপজেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। কর্মকর্তারা দফায় দফায় নদী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। 

ভূমিহীনরা অভিযোগ করেন, কয়েক বছর আগে থেকে শুস্ক মৌসুমে এলাকার প্রভাবশালীরা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় নদীতে এক্সক্যাভেটর নামিয়ে মাটি কাটে। এ কারণেই নদীভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, গড়াই নদীর পানিপ্রবাহ বেশি থাকায় ওসমানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা নদী থেকে বালুমাটি উত্তোলনের অভিযোগ করলেও এ কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ কাজ শুরু করা হবে, তা বলেননি এ কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরীন কান্তা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করে গেছেন। এখন তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর