সোমবার   ০৬ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ২১ ১৪২৭   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
৮৯

ক্ষোভ-হতাশায় দল ছাড়ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২০  

নানা ইস্যুতে ক্ষোভ-হতাশা নিয়ে দল ছাড়ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।নির্বাচনে ভরাডুবি, দলীয় সিদ্ধান্তে সিনিয়রদের মতামত অবজ্ঞা, দলটির কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ না থাকা অন্যতম।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পরই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়ে দলটি। বিশেষ করে তারেক রহমান দলের দায়িত্ব নেয়ার পর যেসব সিনিয়র নেতা জিয়ারউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন তারা অস্বস্তিতে পড়েন। কারণ, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের হাতেগোনা কয়েকজন নেতা ছাড়া কোনো নেতার সঙ্গে কথা বলেন না তারেক রহমান। দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের মতামতও অগ্রাহ্য করা হয়। এসব কারণে তারেকের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তে খুশি নন সিনিয়রা নেতারা।

এ ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়াকে ঘিরে তারেক রহমানের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের দূরত্ব বাড়ে। নির্বাচনের পর দলের পাঁচ এমপির শপথ নিয়েও বিএনপির স্থায়ী কমিটিসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে টানাপড়েন শুরু হয়। সিনিয়র নেতাদের না জানিয়েই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এমনকি সিনিয়রদের গোপন করে বিএনপির সাংগঠনিক জেলা ও দলের পুনর্গঠন করতে গিয়ে কোন্দল আর দলাদলি উসকে দেয়া হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। এ কারণ আটকে আছে বিএনপির জেলা পর্যায়ের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া।

এরই ধারাবাহিকতায় দলের ওপর দায় চাপিয়ে পদত্যাগ করেন সিনিয়র নেতা মোর্শেদ খান। অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে রাজনীতি থেকে অবসরে যেতে বলা হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানকে। বিগত কয়েক বছরে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান শমসেন মবিন চৌধুরী, মোসাদ্দেক আলী ফালু ও ড. এনাম আহমেদ চৌধুরীসহ আরো বেশ কয়েকজন নেতা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একাধিকবার বলেছেন, ব্যর্থতার হতাশা থেকে বিএনপি বেপরোয়া দলে পরিণত হয়েছে। বিএনপি তাদের ভুল রাজনীতির কারণে আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে হতাশার মধ্যে আছে। বেপরোয়া চালকের মতো বিএনপি এখন বেপরোয়া দল। বেপরোয়া চালক যেমন দুর্ঘটনার কারণ, বিএনপি আবার কখন কোনো দুর্ঘটনা রাজনীতি ঘটিয়ে বসে।

এদিকে সাংগঠনিকভাবে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে বিএনপি সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দেয়া, কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক না থাকায় তৃণমূল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে হতাশায় দলও ছাড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির একাধিক তৃণমূল নেতা জানান, নিজেদের দলের সাংগঠনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই বিএনপি এখন সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছে।

দলের মধ্যে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই জানিয়ে তৃণমূল কর্মীরা বলেন, গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছে। ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতাদের দলে কোনো জায়গা নেই। তাদের নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। হতাশায় বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনীতি ছেড়ে অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিএনপি নামে কোনো দল বাংলাদেশে ছিল এটা মনে হবে না।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর