বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

১৩৬

ক্রিকেটই আমার সবার আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  

ক্রিকেটই আমার সবার আগে ,আমার ধ্যান-জ্ঞান সবই ক্রিকেটকে ঘিরে। সবুজ গালিচায় লাল-সাদা বল নিয়েই আমার বেড়ে ওঠা। ক্রিকেটই আমার সবার আগে’- মাশরাফি বিন মুর্তজা। কোনও একদিন কথায় কথায় এসব বলে ফেলা বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়কের।
জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলছেন গত ১৮ বছর ধরে। তার আগের সব না হয় বাদ। এই আঠারো বছর আগেও তিনি কখনও ভাবেননি একজন পেশাদার ক্রিকেটার হবেন।
নড়াইলের চিত্রা-পাড়ের দুরন্তপনা কৌশিক চড়ে বেড়াতেন এই গ্রাম থেকে ওই গ্রাম। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলে বকাও খেতেন শাসক বাবার। তাতেও কি থেমে গিয়েছিলেন কৌশিক? কৌশিক কখনও থেমে যাননি। কৌশিক তাঁর শত বাধা উপেক্ষা করেই আজকের ‘মাশরাফি’।
মাশরাফি বিন মুর্তজা হয়ে শাসন করছেন দেশের ক্রিকেট! অথচ যে কিনা কখনও চিন্তাও করেননি পেশাদার ক্রিকেটার হবেন।
বর্ষায় ফুটবল, শীতের রাতে ব্যাডমিন্টন, বিকেলে ক্রিকেট। এভাবেই যার দিন কাটতো। পড়ার টেবিল আর বই-খাতা ছিল যার শুধু সৌজন্যতা।
খুলনা বিভাগের ছোট্ট একটা জেলা নড়াইল। আজ থেকে বিশ বছর আগের কথা ভাবুন। কেমন ছিল তখনকার নড়াইল! সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা, সেখান থেকেই নিজেকে নিজের মতো করে গড়ে তোলা, সেখান থেকেই উড়ে এসে বাংলাদেশ জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়া, এখান থেকেই বিশ্ব দরবারে পৌঁছে যাওয়া ছোট্ট নড়াইলের সেই ছোট্ট কৌশিকের।
তাকে নিয়ে আজ গর্বের শেষ নেই বাংলাদেশের। নিজের শহর নড়াইলকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন গোটা বিশ্বের কাছে। নিজের নামের সঙ্গে যদি ‘নড়াইল-এক্সপ্রেস’ যোগ হয়ে যায় তখন তো আর অচেনা থাকার কথা নয়।
যার কাছে নিজের শহরের মাটি-মানুষের টান সবকিছুর ঊর্ধ্বে। খেলা শেষে কটা দিন ছুটি পেলেই ছুটে যান মায়ের টানে, নিজ শহরের মানুষের টানে।
কৌশিক এখানেই থেমে থাকতে চান না। যার কাছে বাইশ গজের নায়কের চাইতে চিকিৎসক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষরাই সত্যিকারের নায়ক। তাঁদের জন্য বিলিয়ে দিতে চান নিজেকে।
যে জন্যই ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়ার পর কাজে লাগাতে চান নিজেকে। জীবনের শেষ পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান নড়াইল তথা গোটা দেশের সত্যিকারের নায়কদের জন্য।
যার জন্যই নিজেকে নিয়ে এসেছেন রাজনীতিতে, রাজনীতির কাতারে। দেশকে আরও অনেক কিছু দিতে চান বলেই।
যে মাশরাফি আঠারো বছরের ক্যারিয়ারে কোনও বাজে মন্তব্যের শিকার হননি, কারও কটু কথা শুনতে হয়নি তাঁকে আজ এসবও শুনতে হচ্ছে। কিন্তু নিজের স্বার্থ ভুলে এমন সব খারাপ মন্তব্যও মেনে নিচ্ছেন অবহেলিত মানুষদের কথা ভেবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বিষিয়ে তোলা হচ্ছে তাঁকে নিয়ে কটু কথায়। যারাই এক সময় ‘মাশরাফি’ নামে অন্ধ ছিল, তাঁদের কেন এমন হঠাৎ বদলে যাওয়া!
ভক্তদের কেন এমন বিদ্রূপ আচরণ? যে কিনা নিজের পছন্দের মানুষ, তাঁকে নিয়ে এমন সব মন্তব্য প্রমাণ করে, আমি কোনোকালেই মাশরাফির ভক্ত ছিলাম না।

কারও কাছে মাশরাফি ভিলেন। কারও চাওয়া, লাল-সবুজের জার্সিটা খুলে রাখুক মাশরাফি।
যাদের ধারণা ছিল, তিনি ক্রিকেটের থেকে গুরুত্বটা বেশি দিচ্ছেন রাজনীতিতে।
‘রাজনীতির প্রচারণা বাদ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডের সিরিজের সবকটা ম্যাচেই খেলবেন মাশরাফি।’
তাঁদের জন্য এমন খবরটাও কী কম? আমি যদি তাঁর ভক্ত হয়েই থাকি তবে তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো কী উচিৎ না?
শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই না মাশরাফি নিশ্চিত করেছেন, আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপও খেলবেন।
নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, ২০০১, ক্রিকেটের আঙিনায় পথচলা শুরু। আজ ২০১৮। এই প্রায় দেড় যুগে ক্রিকেট যা খেলেছি, জীবন দিয়ে খেলেছি। কখনও আপোষ করিনি। আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত আপোষ করতেও চাই না। বাকিটা মহান আল্লাহর ইচ্ছা।
 
 

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর