বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৯   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
১০০

কুষ্টিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা

প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২২  

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ মার্চ) বিকেলে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ এই আয়োজন করে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মানেই বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু মানেই মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একে ওপরের পরিপূরক। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে কল্পনা করা যায় না। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার প্রতীক ও খাঁটি দেশপ্রেমিক। তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের জন্য অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। বাংলার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী বঙ্গবন্ধুর পরিচিতি হচ্ছে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে। দেশ বরেণ্য, বিশ্ব বরেণ্য রাজনীতিবিদ। মানব প্রেমী, অনন্য সাধারণ একজন রাজনীতিবিদ যিনি তাঁর জীবদ্দশায় নির্যাতিত-নিপীড়িত, নিষ্পেষিত বাঙালি নামক একটি জনগোষ্ঠীকে চির দিনের জন্য স্বাধীন করে গেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস যতদিন থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অম্লান থাকবেন বলেও জানান তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনযাপন সুন্দর ও সচ্ছল করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা মাসিক ৩০০ টাকা থেকে ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধি করে মাসিক ২০,০০০টাকা নির্ধারণ করেছেন।

ঈদ বোনাস ও উৎসব ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস সহ বিভিন্ন দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ নেন, কুশলাদি বিনিময় করেন।

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্সী মোঃ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসম আখতারুজ্জামান মাসুম, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জায়েদুর রহমান, কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (অপারেশন) শফিকুল ইসলাম।

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ্ব রফিকুল আলম টুকু ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোশাররফ হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্সী মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যক্তি, পরিবারের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে জাতিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার দৃঢ় সংকল্পে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে নেমেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষায় সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি কনক চৌধুরী। অনুষ্ঠান শেষে ২০জন বীর মুক্তিযোদ্ধােেক প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর