শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৫ ১৪২৬   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

১২

কুষ্টিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসায় গাফিলতি!

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হলেন এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। অপেক্ষার পর অপেক্ষা কিন্তু ডাক্তার আর আসেন না। তিনি হাসপাতালে নেই।

অবশেষে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ডাক্তার এলেন, তাও ২০ ঘন্টা পর।

আলোচিত এই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম কামাল হোসেন দবির (৭২) । তিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দুইবার নির্বাচিত কমান্ডার। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার স্বজন ও মুক্তিযোদ্ধারা।

বুধবার সন্ধ্যায়ও হাসপাতালের কেবিনে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন। স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে আগের দিন রাত ১১ টার দিকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ৭ নং কেবিনে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান নিউরো মেডিসিনের চিকিৎসক ডাঃ শহিদুল ইসলাম তাকে দেখবেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৭ টা অবধি ওই চিকিৎসকের কোন খবর না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন রোগীর স্বজনরা জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের স্মরণাপন্ন হন।

অবশেষে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন ওই চিকিৎসক। ততক্ষণে পেরিয়ে যায় মূল্যবান ২০টি ঘন্টা।

এ ব্যাপারে নিউরো মেডিসিনের ওই চিকিৎসক জানান, তিনি মিটিং এ ছিলেন তাই হাসপাতালে আসতে পারেননি।

দৌলতপুর শেরপুর যুদ্ধের যুদ্ধকালীন কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খাঁন জানান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার ব্যাপারে ডাক্তারের এমন উদাসিনতা খুবই দুঃখ জনক। আমি খুবই মর্মাহত।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোসাঃ নুরুন্নাহার বেগম জানান, রোগির স্বজনদের এ অভিযোগ পুরোপুরি সত্য না। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন ডাঃ আবু সালেহ মোঃ মুসা কবির ওই রোগিকে দেখেছেন। তিনি সিটিস্ক্যানসহ কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন। এবং পরে নিউরো মেডিসিনের চিকিৎসক ডাঃ শহিদুল ইসলাম রিপোর্টগুলো দেখে চিকিৎসা দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতালে অপেক্ষা না করে প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে রিপোর্ট দেখাতে পারতেন।’

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, ‘রোগী তো রোগিই। সে মুক্তিযোদ্ধা হোক আর সাধারণ মানুষ হোক। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি খুবই সেনসিটিভ ভাবে দেখা হয়। তবে একজন চিকিৎসক ২০ ঘন্টা মিটিং এ থাকতে পারে না। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই আমি হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন দবিরের চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।’

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর