বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

৯৯

কুষ্টিয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগ ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত দুই হাজার শিশু 

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০১৮  

শীতের শুরুতেই হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগ ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে কুষ্টিয়া হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে দুই হাজার শিশু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে । এখনও ভর্তি আছে প্রায় দুই শতাধিক শিশু। 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রোগীর অভিভাবক ও ভুক্তভোগিরা পর্যাপ্ত বিছানা সংকট, নিম্ন মাণের চিকিৎসা সেবা, স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ নিয়ে নানা অভিযোগ জানান। 

হাসপাতাল সরেজমিনে দেখা যায়, নবনিতা বয়স মাত্র সাড়ে ৩বছর। গত চারদিন আগে জ্বর-সর্দি-কাশিসহ ঠান্ডাজনিত শ্বাসকষ্ট নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। তার মত গত এক সপ্তাহে এখানে শ্বাসকষ্ট ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই হাজার শিশু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। ওয়ার্ডের ভেতর জায়গা নেই, পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর রিপোর্ট দেখাতে চিকিৎসকের দেখা মেলে না। জোর করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এমন অভিযোগ জানান রোগীর অভিভাবকরা। 

অভিভাবকরা জানান, এখানে ভর্তির পর সারাদিন-সারারাত গেলেও চিকিৎসকের দেখা পাওয়া দুস্কর, অধিকাংশ সময় নার্সরা মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। একারণে মুমুর্ষ সন্তানকে নিয়ে মায়ের কষ্টের সীমা নেই। ওয়ার্ডে একটি মাত্র টয়েলট তাও ব্যবহারের অনুপোযোগী।এখানে সব ঔষুধ কিনতে হয় বাহির থেকে। 

তবে ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের দাবি, শীতের শুরুতে এবং শেষে সাধারণত ব্রংকলাইটিস বা ঠান্ডাজনিত রোগ হয়। আমাদের চিকিৎসায় কোন ঘাটতি নেই, সাধ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে ।

 কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার সরকার জানান, শুধু কুষ্টিয়া নয়, এসময়ে সাধারণত সারাদেশে এধরণের রোগ দেখা দেনে। কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড মাত্র ২০টি । প্রতিদিন এখানে এখন ভর্তি হচ্ছে দেড়শরও অধিক। লোকবল ও বেডের স্বল্পতার কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা ঊর্ধ্বতনদের বিষয়টি জানিয়েছি এবং আশা করছি খুব দ্রুত বিষিয়টি সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য প্রতিবছর কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে শীতের শুরুতে এবং শেষে ঠান্ডাজনিত রোগ ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয় কয়েক হাজার শিশু। কিন্তু সে অনুপাতে সরকারীভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। এতে অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। আবার কেউ জন্মের পর এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে সারাজীবন এরোগ বহন করে থাকে। তাই এ সময়ে দ্রুত সরকারী হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা জরুরী বলে মনে করেন এখানকার সচেতন মহল।  


 

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর