সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ৪ ১৪২৮   ১২ সফর ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গুরুত্ব পাবে যে ৬টি বিষয় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সৌদি সরকার বাংলাদেশের সুগন্ধি চাল বিশ্বময় সুবাস ছড়াচ্ছে মোংলা বন্দরে নির্মিত হচ্ছে আরও ৬টি জেটি
৩৪

কুষ্টিয়ায় আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী, পদ্মা-গড়াই বিধৌত বিস্তীর্ণ এক জনপদ কুষ্টিয়া। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। এ জেলার স্বাধীনতাকামী বীর মুক্তিযোদ্ধারা দখলদার পাক হানাদারদের খতম করে কুষ্টিয়া প্রথমবারের মতো হানাদার মুক্ত করে ৩১ মার্চ। 

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বৃহত্তর কুষ্টিয়ার মেহেরপুর জেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান মুজিবনগর) গ্রামের ঐতিহাসিক আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার। 
তাছাড়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এই জেলা শিল্প ও সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বাংলাদেশকে করেছে সমৃদ্ধ। বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন ও বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের তীর্থভূমি কুষ্টিয়া। 
কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুরে জন্মেছেন গীতিকার, সুরকার ও কবি আজিজুর রহমান। বিশিষ্ট কবি দাদ আলী, লেখিকা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক সাহিত্যিক সমাজ সংস্কারক ও উদার হৃদয় সাধক পুরুষ ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ‘হরিনাথ মজুমদার’ ওরফে ‘কাঙাল হরিনাথ, নীল বিদ্রোহের নেত্রী প্যারী সুন্দরী, স্বদেশী আন্দোলনের নেতা বাঘা যতীন, শিল্পী আব্দুল জব্বারের জন্মস্থান এই জেলা। 
এমন অসংখ্য গুণীজনের পীঠস্থান সমৃদ্ধ করেছে এই জেলাকে। ৬টি উপজেলা ও ৭টি থানা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া জেলার মোট আয়তন ১ লাখ ৬শ’ ২১ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার। এখানকার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। ১৮৬৯ সালে কুষ্টিয়া পৌরসভা স্থাপিত হয়। 
ঐতিহ্যবাহী এই পৌরসভার বর্তমান মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা মোঃ আনোয়ার আলী। বিগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আমলে কুষ্টিয়া ছিল উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত এক জনপদ। বলা যেতে পারে, বিমাতাসুলভ নির্মম আচরণের শিকার হয় এই জেলা। কিন্তু অবহেলিত কুষ্টিয়া জনপদের মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। 
দলের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্তে পাল্টে যেতে থাকে এখনকার দৃশ্যপট। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ (কুষ্টিয়া সদর) আসনের এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক উন্নয়নের রূপকারখ্যাত মাহবুব-উল-আলম হানিফের তত্ত্বাবধানে জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ, শহর বাইপাস সড়ক, সুইমিংপুল কমপ্লেক্স এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স ভবন নির্মণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ। এর মধ্যে হরিপুর সংযোগ সেতু, শহর বাইপাস সড়ক, শিল্পকলা একাডেমির নতুন কমপ্লেক্স ভবন ও সুইমিংপুল কমপ্লেক্স এখন দৃশ্যমান। 
অপরদিকে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালসহ অনেক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এখন চলমান।

কুষ্টিয়ার উন্নয়ন সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে যে উন্নয়নের ধারা চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের তত্ত্বাবধানে গত ৪২ বছর ধরে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলোর বেশিরভাগই এখন দৃশ্যমান হয়েছে। কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, জেলার মেগা প্রকল্প কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। কুষ্টিয়া শহর ঘেঁষা হরিপুর ইউনিয়নের ৭৫ হাজার মানুষকে বিভক্ত করে রেখেছিল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা গড়াই নদী। এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, দাবি ও আন্দোলন সংগ্রাম ছিল ওই নদীর ওপর একটি সেতু। বর্তমান সরকার আমলেই ওই সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। 
তাছাড়া কুষ্টিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি ছিল শহর বাইপাস সড়ক। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই শহর বাইপাস সড়কটির নির্মাণ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ওই নেতা আরও বলেন, কুষ্টিয়ায় দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সুইমিংপুল কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি অডিটরিয়ামসহ তিনতলা বিশিষ্ট জেলা শিল্পকলা একাডেমির অত্যাধুনিক ভবন এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া শেখ কামাল স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প কাজের টেন্ডার হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের পূর্ব পাশে তৈরি করা হচ্ছে একটি আইটি পার্ক। পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে লিফট সুবিধাসহ চারতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন জেলা মডেল মসজিদ। ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে জেলা পরিষদের আধুনিকমানের নতুন দশতলা ভবন। গড়াই নদীর তীরে হচ্ছে জেলা পরিষদের ইকোপার্ক। এছাড়া কুষ্টিয়া নির্মাণ করা হচ্ছে খুলনা বিভাগের মধ্যে আকর্ষণীয় ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ৬তলা বিশিষ্ট একটি সার্কিট হাউস। কুষ্টিয়ায় ফোর লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল বলেন, এসব উন্নয়ন কাজের সবই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আমলে হয়েছে’।

কুষ্টিয়া শহর সংলগ্ন হরিপুর ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন গড়াই নদীর ওপর কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু যা বর্তমান সরকারের সময়েই দৃশ্যমান হয়েছে। শতকোটি টাকা ব্যয়ে ‘শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু’ নামের পিসি গার্ডার সেতুটি গত ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। গড়াই নদীর কারণে কুষ্টিয়া শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হরিপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সেতু। কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মাণের দাবিতে হরিপুরবাসী ১৯৯০ সাল থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছিল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আমলে হরিপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও সেই সেতু আর নির্মাণ হয়নি। অবশেষে আওয়ামী লীগ বর্তমান সরকার আমলে জনগুরুত্বসম্পন্ন হরিপুরবাসীর স্বপ্নের সেতু বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকাবাসী বেশ উৎফুল্ল।

দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সড়ক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কুষ্টিয়া শহরের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া ঝিনাইদহ-ঈশ্বরদী মহাসড়ক। এ কারণে দিনরাত ভারি যানবাহনের চাপ ও যানজটে অতিষ্ঠ ছিল শহরবাসী। কুষ্টিয়া শহরকে নিরাপদ রাখতেই ব্যস্ততম এ সড়কের বিকল্প শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। যদিও কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়কটি ছিল কুষ্টিয়াবাসীর প্রাণের দাবি। ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ঝিনাইদহ সড়কে কুষ্টিয়া শহরের বটতৈল থেকে বাইপাস সড়কটি ত্রিমোহনী এলাকায় কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে গিয়ে মিলেছে। সড়কটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয় প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্তের ডাবল লেন বিশিষ্ট প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই বাইপাস সড়কে একটি রেল ওভারপাস পিসি গার্ডার সেতু ও ছোট বড় মিলিয়ে ২৩টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালের ১ নবেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাইপাস সড়কের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে নিজ জেলার উন্নয়ন কাজ সম্পর্কে কুষ্টিয়ার উন্নয়নের রূপকার আখ্যায়িত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই কুষ্টিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশাগুলো একে একে বাস্তাবায়িত হয়েছে। হরিপুর সংযোগ সেতু, বাইপাস সড়ক, মেডিক্যাল কলেজ, আধুনিক সুইমিংপুল কমপ্লেক্স নির্মাণসহ এই জেলার বহু স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে। শুরু হয়েছে ফোর লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজও। 
তাছাড়া সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজও করা হয়েছে। হানিফ বলেন, আমাদের প্রত্যেকের পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারণে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। তিনি আরও বলেন, এ দেশে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কোন বিকল্প নেই। এই দেশের উন্নয়ন কীভাবে করতে হয়, এ দেশের মানুষের ভাগ্য কিভাবে পরিবর্তন করতে হয় তা কেবল শেখ হাসিনা সরকারই জানে।’

এছাড়া কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ২০১১ সালে অধ্যক্ষসহ ১১ জন শিক্ষক আর ৫২ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে মেডিক্যাল এ্যাসিস্টেন্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ম্যাটস) ভবনে অস্থায়ীভাবে যাত্রা শুরু হয় কুষ্টিয়াবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের। এরপর ২০১৩ সালে শহরের লাহিনীপাড়া এলাকায় ২০ একর জায়গার ওপর ২৭৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে নির্মাণ কাজ শুরু হয় কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের। ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে একনেক বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়। 

জেলায় এসব উন্নয়ন কাজ সম্পর্কে কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা মোঃ আনোয়ার আলী বলেন, ‘বর্তমান সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনার বাংলা গড়তে বদ্ধপরিকর। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া পৌরসভায় রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই রোড ডিভাইডার নির্মাণ ও লাইটিংসহ শহরে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। শহরের ব্যস্ততম পাঁচ রাস্তা মোড়ে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিনন্দন তিনটি ভাস্কর্য। এর মধ্যে পশ্চিম দিকের ভাস্কর্যটি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে তৈরি। পূর্ব দিকের ভাস্কর্যটি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং উত্তর দিকেরটি ৬ দফা আনোদলনের স্মরণে নির্মিত’।

সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক চর্চায় নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক মানের জেলা শিল্পকলা একাডেমির নতুন ভবন। এটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এক একর জায়গার ওপর প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তিনতলা বিশিষ্ট নতুন এই একাডেমিতে থাকছে অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স ভবন। থাকছে তিনটি অডিটরিয়াম। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক ফিক্স অডিটরিয়াম, মাল্টিপারপাস অডিটরিয়াম এবং এরিনা মঞ্চ। ঢাকার পরেই হবে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির অবস্থান। জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান এই সরকারের আমলে কুষ্টিয়ায় অত্যাধুনিক মানের শিল্পকলা একাডেমি ভবন পেয়েছি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরই কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমিকে ধরা হবে দ্বিতীয় বৃহত্তম একাডেমি ভবন। এটির কার্যক্রম শুরু হলে জেলার সাংস্কৃতিক চর্চা বিশ্ব দরবারে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করবে’। উন্নয়ন নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খোকসা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ সদর উদ্দিন খান জনকণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছা আর কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বর্তমান সরকারের সময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে দীর্ঘকাল এই জেলা ছিল উন্নয়ন বঞ্চিত। কুষ্টিয়ার পিছিয়ে পড়া এই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন জেলার সকল উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূর্ত প্রতীক উন্নয়নের রূপকার জননেতা মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি। তারই তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যেই কুষ্টিয়াবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবিগুলো একে একে বাস্তবায়ন হয়েছে’।

জেলার আরেকটি উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত কুষ্টিয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বহুতল ভবন। ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ আদালতের নতুন এই ভবনের উদ্বোধন করা হয়।

কুষ্টিয়া শহরের বাইরে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আরেকটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প কুমারখালী উপজেলার গড়াই সেতু। শত বছরের হাজারো মানুষের স্বপ্ন কুমারখালীর এই গড়াই সেতু (প্রস্তাবিত নাম শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু) এখন অনেকটায় দৃশ্যমান। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমারখালী-যদুবয়রা ঘাটে সেতুটি নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রেকৌশল অধিদফতর। ২০২২ সালের মাঝামাঝি এটি চলাচলের জন্য উন্মক্ত হতে পারে। গড়াই নদীর কারণে বিভক্ত কুমারখালীবাসীর বহুল প্রত্যাশিত এ সেতু নির্মিত হলে ৫টি ইউনিয়নের হাজারও মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট-দুর্ভোগ লাঘব হবে। স্থানীয় (কুষ্টিয়া-৪) এমপি ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ জনকণ্ঠকে বলেন, ‘কুমারখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা শহীদ গোলাম কিবরিয়া (প্রস্তাবিত নাম) সেতুটির নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। জননেত্রী শেখ হাসিনার উপহার এই সেতু। এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে কুমারখালীর বিভক্ত দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে তৈরি হবে অনন্য এক সেতুবন্ধন’।

বর্তমান সরকারের আমলেই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়ন দুইটিতে পৌঁছেছে বিদ্যুতের আলো। প্রায় দেড় শ’ বছরের পুরোনো এলাকা দুটির কয়েকটি গ্রামে বসবাস অন্তত ৫০ সহ¯্রাধিক মানুষের। ভারত সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামগুলো পদ্মা নদীর কারণে মূল ভূন্ডখন্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্নই বলা চলে। 

বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে নৌকাযোগে যাতায়াত সুবিধা হলেও শুকনো মৌসুমে যত বিড়ম্বনা। গ্রীষ্ম মৌসূমে চারদিকে ধু-ধু বালুচর। চরাঞ্চলের মানুষজনের যাতায়াতের একমাত্র বাহন হলো ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। নাগরিক সুবিধা বলতে এখানে তেমন কিছু নেই। দিনে জনসমাগম থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামগুলো পরিণত হতো ভুতুড়ে জনপদে। চারদিক ঢেকে যেত অন্ধকারের চাদরে। আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজারগুলোও হয়ে পড়ত জনশূন্য। চারদিকে সুনসান নীরবতা। দিনে সূর্যের আলো থাকলেও রাতের অন্ধকার দূর করতে বিদ্যুতের আলো এই জনপদের মানুষের কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। চারঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের বিদ্যুতের সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয় ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি। এদিন রামকৃষ্ণপুর ও চিলামারী ইউনিয়ন দু’টিতে বিদ্যুত সংযোগের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের এমপি এ্যাডভোকেট আ.কা.ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ। উদ্বোধনী দিনেই সেখানে দেয়া হয় ২২১টি বিদ্যুতের সংযোগ। ভুতুড়ে জনপদের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় এ সময় তাদের চোখেমুখে বয়ে যায় আনন্দের হাসি। এমপি সরওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুত দেয়ার ঘোষণা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাত্র দুই বছরের মাথায় চরে বিদ্যুত সংযোগ দিতে পেরেছি’।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর