বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

কুষ্টিয়ার মোকামে কমছে চালের দাম

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০১৯  

শাসনের তদারকি আর সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিত্বে কুষ্টিয়ায় গত দুদিনে কেজিপ্রতি চালের দাম ২ টাকা কমেছে। আর বেচাকেনা না থাকায় প্রতিদিন চালের মোকামে মজুত হচ্ছে ১০ হাজার মেট্রিক টন। 

জানা যায়, গত সোমবার থেকে কুষ্টিয়ার খাজানগর চালের মিলগেটে মিনিকেট প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ৫০ টাকা কমে ২২০০ টাকায় বিক্রি শুরু হয়। তাতে কেজিপ্রতি মিলগেটে কেনা পড়ে ৪২ টাকা তা খুচরা বাজারে সুপার মিনিটেক ৪৫ টাকা আর সাধারণ মিনিকেট কেজিপ্রতি দাঁড়ায় ৪৪ টাকায় এখন কুষ্টিয়ার বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে চালের দাম কেজিতে ২ দুই টাকা বেড়ে যায়। ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত মিনিকেট চাল প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬টা টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। এরপর আমদানি আর বেচাকেনা না থাকা ও প্রশাসনের নজরদারিতে সেই দাম পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে আগের তুলনায় ফরমায়েশও কম পাচ্ছেন চালকল মালিকরা। গত তিন দিনে ৫০ কেজির বস্তার দাম ৫০ টাকা করে কমেছে। মিলগেটেই ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২২০০ টাকায়। ওই হিসাবে কেজিপ্রতি চালের দাম পড়ছে ৪৪ টাকা। গত সোমবার সুপার মিনিকেট এক কেজি চালের দাম ছিল ৪৬ টাকা।

চালের দাম কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে কুষ্টিয়া হাসকিং চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন জানান, মোকামে বেচাকেনা নেই। তাই দাম পড়ে গেছে। 

এ ছাড়া প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোকামে তদারকি শুরু করায় চালকল মালিকরা চালের দাম প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ১০০ টাকা কমিয়ে দিয়েছেন। 

আরো সুখবর হচ্ছে প্রতিদিন কুষ্টিয়ায় ১২ হাজার মেট্রিক টন চাল মজুত হচ্ছে। তাতে বিক্রি বাদে মজুত হচ্ছে ১০ হাজার মেট্রিক টন। এভাবে চলতে থাকলে এবার চালের মূল্য আরো কমবে, ধানের দামও কমবে।

সরেজমিনে কুষ্টিয়া চালের মোকামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ নভেম্বর হঠাৎ করেই মিনিকেট চালের দাম বাড়তে থাকে। তখন চালকল মালিকরা বলেছিলেন, সরকার ধান কেনা শুরু করায় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা হাটে ধানের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতেই চালের দাম ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতি কেজি চালের দাম ৭ টাকা বেড়ে যায়। গত মঙ্গলবার থেকে মোকামে চালের দাম কেজিতে ১ টাকা কমিয়েছেন চালকল মালিকরা। আগের দরের তুলনায় তারা মিলগেটে পাইকারিতে চালের দাম ১ টাকা কম রাখছেন। তবে খুচরা বাজারে এখনো এর প্রভাব পড়েনি। গত শুক্রবার চালের দাম কেজিতে আরো ১ টাকা কমে যায়। 

লিয়াকত রাইস মিলের মালিক হাজি লিয়াকত বলেন, চালের দাম কেজিতে ২ টাকা কমেছে। এখন মিনিকেট চাল মিলগেটে প্রতি কেজি ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কয়েকজন চালকল মালিক বলেন, ধানের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন ধান বাজারে আসছে, পুরাতন ধানও বাজারে রয়েছে। চালকল মালিকেরা যাচাই-বাছাই করে ধান কিনছেন। বাজারে নতুন স্বর্ণা জাতের মোটা ধান মাত্র ৬১০ থেকে ৬৫০ টাকা ও সরু জাতের কয়েকটি ধান ৯৫০ থেকে ৯৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে চালের বাজারেও নতুন করে আর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

চালকল মালিকদের দাবি, কুষ্টিয়ার মোকামে ৪৪টি অটোরাইস মিলে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়। হাসকিং মিলে ২ হাজার টন। সব মিলিয়ে উৎপাদনের পরিমাণ ১২ হাজার টন। কিন্তু গত চার দিনে এই মোকামে সব মিলিয়ে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার টন চালের ফরমায়েশ এসেছে। বাকি ৮ হাজার টন মজুত হয়েছে। সামনের কয়েক দিন যদি ফরমায়েশ কমে যায় তাহলে সবার মিলেই চালের ব্যাপক মজুত হয়ে যাবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর