শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ৮ ১৪২৮   ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ ডোজ টিকা আসছে শনিবার কুষ্টিয়ায় করোনা ও উপসর্গে আরও ১৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৫৭ ভারতে রেকর্ড ১.২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি মেহেরপুরে রাজনগর গ্রামবাসীর জন্য সৌদিপ্রবাসীর অ্যাম্বুলেন্স উপহার রবিবার থেকে ব্যাংক লেনদেন দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ‘টিকার সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৮ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার’
১৫

কুষ্টিয়ার তেতুল কাঠের গুড়ি, আজও ধরে রেখেছে ঐতিহ্য

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২১  

সময় বড্ড এগিয়েছে। প্রাচীন বা সেকেলে জিনিস দেখতে এখন জাদুঘরে যেতে হয়। কিন্তু ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কাঠের গুড়ি। যা মানুষ সেই প্রাচীণকাল থেকে ব্যবহার করে আসছে মাংস কাটার কাজে। আজও সমানভাবে রয়েছে তার জনপ্রিয়তা। ঈদ এলেই সারাদেশের আনাচে-কানাচে এই জিনিসটির কদর বিপুল পরিমাণে বেড়ে যায়।

আর কুষ্টিয়া শহরের স'মিল থেকে তৈরি হয়ে আসা তেতুল কাঠের পাটাতন তো খ্যাতি কুড়িয়েছে দেশজুড়ে। যদিও দেশের বিভিন্ন এলাকার স'মিলে তৈরি হওয়া পাটাতনে চাহিদা পূরণ করা হয়। এলাকাভেদে এর বিভিন্ন নাম রয়েছে। কোন এলাকায় এটাকে বলে খাইট্রা, খটিয়া, কাইটে, গুড়ি, শপার, হাইজ্যা প্রভৃতি।

ঈদুল আজহা মানেই পশু কোরবানী। আর এই কোরবানীর পশু জবাইয়ের পর মাংস প্রক্রিয়াকরণের কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় উপকরণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই মাংস কেটে টুকরো করার কাজে ব্যবহৃত এই কাঠের পাটাতনটি।সারা বছর কসাইখানাতে এটির ব্যবহার খুবই সাধারণ হলেও জিনিসটি অসাধারণ চাহিদায় এসে ধরা দেয় ঈদুল আজহার এইদিনে। 

একটি গরু প্রসেস করতে প্রায় দুই থেকে তিনটি গুড়ির প্রয়োজন হয়ে থাকে। একটি ছাগল প্রসেসে অবশ্য একটিই যথেষ্ট।
সাধারণত এলাকার স’ মিল (কাঠ চেরাই মিল/করাতকল) গুলোতে গাছের গুঁড়ি করাতে ফেলে ছোট ছোট গোল আকৃতির টুকরা তৈরি করে এটি বানানো হয়।

এই গুড়ি ব্যবসায়ী ও স’মিলের মালিকরা জানান মাংস কাটার কাজে কাঠের এই গুড়ির কোন বিকল্প নেই। যে ডাঁশা/চাপাতি দিয়ে মাংস কাটা হয় সেটা এই গুড়ি ছাড়া অসম্ভব। তবে তারা জানান এই গুড়ি তৈরিতে বিশেষ সর্তক থাকতে হয়। কাঠের ব্যবহারও নির্দ্দিষ্ট হতে হবে।

কুষ্টিয়া শহরের চাঁদাগাড়ি এলাকার ভাই ভাই স’মিলের মালিক আজিবর রহমান জানান তেঁতুল গাছের কাঠ দিয়েই এই খাইট্টা বানাতে হয়। কারণ হিসেবে তিনি জানান, তেতুল কাঠে সহজে চাপাতির কোপ বসবে না। তাই কাঠের গুঁড়াও উঠবে না। ফলে মাংস নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

আজিবর জানান তার স’ মিলে সারাবছরই এই গুড়ি তৈরি করা হয়। পেশাদার কসাইরা তার কাছ থেকে গুড়ি নিয়ে থাকে। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে তার স’সিলে তিনি প্রায় ৫০০’র বেশী গুড়ি তৈরি করেন। প্রায় পুরো শহরের চাহিদা তিনিই মেটান।
এবারে প্রতিটি সাধারণ মানের গুড়ি বিক্রয় হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এর সাথে আরও আছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার প্রসেসিং চার্জ। তবে তারপরও গুড়ির ওজনের উপর এই দাম নির্ভর করে। বড় মানের পেশাদার গুড়ির দাম প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।

শহরের আশেপাশের আরো কয়েকটি স’মিলে এই গুড়ি তৈরি হচ্ছে। শহরের মঙ্গলবাড়িয়া এলাকার রিক্তা স’ মিলের মালিক উজের আলী জানান শহরের বড় বাজার, মিউনিসিপ্যালিটির বাজারে তার স’মিলের গুড়ি পাওয়া যাচ্ছে। তিনি প্রায় ৩০০ গুড়ি তৈরি করেছেন। তিনি প্রায় ২০০ বিক্রি করে ফেলেছেন।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর