মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
৭৪

কুমারখালীর বিদ্যালয়ের সেই সততা স্টোরে দুর্ধর্ষ চুরি!

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০১৯  

শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক শিক্ষাচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, ঝুঁকি হ্রাসের মতো বেশকিছু মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে সততা স্টোর বা সততার দোকান। যেখানে থাকে না কোনো দোকানি। পণ্যের গায়ে লেখা মূল্য দেখেই পছন্দের পণ্য নিয়ে সততার স্টোরের বক্সে টাকা রাখবে শিক্ষার্থীরা। এতে একদিকে যেমন তাদের মাঝে নৈতিকতা চর্চা হবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের বাইরের নানা প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা পাবে শিক্ষার্থীরা। 

কিন্তু এই স্টলের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে অবস্থিত ছোট-বড় মুদি দোকানসহ চটপটি ও ফুসকার দোকানগুলো। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সততা স্টোরগুলো উচ্ছেদ করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। সততা স্টোরে চুরি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে বিরূপ আচরণসহ নানা ঘটনার জন্ম দিচ্ছে দোকানিরা। 

এমন এক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সততার স্টোরে। 

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রায় চার মাস পূর্বে গড়ে তোলা হয়েছে সততা স্টোর। যেখানে রয়েছে কাগজ, কলম, চকলেট, কেক, বিস্কুটসহ প্রায় ১২ রকমের পণ্য। ঐ রুমেই থাকে বিদ্যালয়ে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ড্রামসেটসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরঞ্জাম। 

কিন্তু সোমবার (২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে শুধু সততা স্টলের মালামাল চুরি ও ভাঙচুর করেছে। তবে সন্দেহের তীর ছুটেছে বিদ্যালয় চত্বরে থাকা মুদি দোকানি আফাজ উদ্দিনের দিকে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ শ ম সরোয়ার জানান, কে বা কারা রাতে অফিস কক্ষের তালা ভেঙে সততার স্টোরে চুরি ও ভাঙচুর করেছে। তবে অফিস কক্ষে থাকা ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ নানা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রাদি অক্ষত রয়েছে। 

তিনি আরও জানান, পূর্ব শত্রুতা করে বিদ্যালয় চত্বরে থাকা দোকানি এ কাজ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিদ্যালয় চত্বরের দোকানি আফাজ ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানান, স্থানীয় ছেলেপেলে শয়তানি করে এ কাজ করতে পারে। বিদ্যালয়ে সততা স্টোর গড়ে ওঠার আগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হলেও বর্তমানে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শত্রুতা করে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ এ কাজ করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর