সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ৪ ১৪২৮   ১২ সফর ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গুরুত্ব পাবে যে ৬টি বিষয় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সৌদি সরকার বাংলাদেশের সুগন্ধি চাল বিশ্বময় সুবাস ছড়াচ্ছে মোংলা বন্দরে নির্মিত হচ্ছে আরও ৬টি জেটি
১৭

কুমারখালীতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ কারেন্ট জাল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১  

বাংলাদেশের মত্স্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় ১৭ বছর আগে ২০০২ সালে সংশোধিত মৎস্য সংরক্ষণ আইনে কারেন্ট জাল উৎপাদন, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এই আইন যে মানা হচ্ছে না, তা আরেকবার বোঝা গেল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা কারেন্ট জাল অবাধে বিক্রির খবরে।

জানা গেছে, বর্ষায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়ার কুমারখালী খাল-বিলে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ। পানি বাড়লেই মৎস্যজীবীদের তৎপরতা বাড়ে বহুগুন। জেলার কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন নদী-নালা-খাল-বিলে বর্ষায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, যেমন-কই, শিং, মাগুর, পুঁঠি, চাঁদা, খলসি, টাকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে।

তবে মাছ ধরার ফাঁদ তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা থাকলেও নেই বেচা-কেনা। কারণ বাজার দখলে নিয়েছে চায়না কারেন্ট জাল, অবাধে চলছে পাইকারী ও খুচরা বেচা-কেনা। সেখানে এসব জাল দিয়ে জেলেরা দেশি প্রজাতির ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধন করছেন। বর্ষার শুরু থেকে এসব জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর মাছ ধরার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বর্ষায় খাল-বিল বা উন্মুক্ত জলাশয়ে ফাঁদ দিয়ে মাছ শিকার করে থাকে। মাছ ধরার সহজ কৌশল চলাচলের পথে পেতে রাখা হয় ফাঁদ।

তাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন কেনা-বেচা হচ্ছে মাছ ধরার ফাঁদ। বাঁশ দিয়ে তৈরি, চারো, খৈলনি, বৃত্তিসহ মাছ ধরার বিভিন্ন ফাঁদ তৈরি এবং কেনা-বেচা হচ্ছে। কিন্তু চায়না কারেন্ট জালের প্রভাবে অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশীয় মাছ ধরার ফাঁদ শিল্প, নেই আগের মত বেচা-কেনা।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরেন। এ ছাড়া এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে জেলেদের হাতে কারেন্ট বা মশারি জাল তুলে দিচ্ছেন।

এলাকার বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, উপজেলার বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিলে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে প্রকাশ্যে মাছ শিকার করছেন তারা। সাধারণত এই ধরনের জালে দেশীয় প্রজাতির মাছ শিকার হয়ে থাকে। সরকার একদিকে বিশাল আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করছেন আর অন্যদিকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা খাল-বিলে কারেন্ট জালের অবৈধভাবে ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকার করছেন। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ডিমওয়ালা ও ছোট পোনা মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী অকালে মারা যাওয়ায় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, আমাদের আমিষের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ হয় মাছ থেকে। তাই মৎস্য সম্পদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং উৎপাদন না বাড়িয়ে কোনো উপায় নেই। মত্স্য খাতের ভবিষ্যতের স্বার্থেই কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান ও প্রচার-প্রচারণা চালানো শুরু করেছে।  

এছাড়া চায়না কারেন্ট জাল নিধনে আমরা অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিয়ে থাকি এবং সারা বছরই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারেন্ট জাল জব্দ, জেল-জরিমানার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর