সোমবার   ১৫ জুলাই ২০২৪   আষাঢ় ৩০ ১৪৩১   ০৭ মুহররম ১৪৪৬

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
দেশের চার বিভাগে ভারী বর্ষণের আভাস জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পেল ৭৭ প্রতিষ্ঠান ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে সহজ হয় সর্বদা সেই কাজই করছি: প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারের বিকল্প নেই দেশে কোনো মানুষ অতিদরিদ্র থাকবে না: শেখ হাসিনা
৩৩

কুকুর আতঙ্কে চুয়াডাঙ্গা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই ভ্যাকসিন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৪  

চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে বিরাজ করছে বেওয়ারিস কুকুর আতঙ্ক। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিশু ও পথচারীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়। কুকুর আতঙ্ক নিয়েই রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। আর প্রতিদিনই কুকুরের কামড় খেয়ে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে আক্রান্তদের। কিন্তু স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এন্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন Anti-Rabies Vaccine (ARV) না থাকায় চরম ভোগান্তির শিক্ষার হচ্ছেন আক্রান্ত ব্যক্তিরা।

অথচ বেওয়ারিস কুকুর নিধনে পৌরসভা ও প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। এতে চরম ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা।

পথচারীদের কামড়ানো ছাড়াও রাতের বেলায় বেওয়ারিস কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। রাতে বেলায় মহল্লায় চলতে গেলে কুকুরগুলো দল বেঁধে কুকুর এসে পথ আগলে রাখে। পথচারীরা কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে এমন নয়, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীর ওপরও চড়াও হয় কুকুরগুলো।

তবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাক্সিন রয়েছে। গত ৭ দিনে (১ জুন থেকে ৭ জুন) কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে শিশুসহ মোট চিকিৎসা নিয়েছেন ৬২ জন।

ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দীর্ঘদিন যাবত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কোনো এন্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন Anti-Rabies Vaccine (ARV) নেই। ফলে কুকুর-বিড়ালে আঁচড় কিংবা কামড়ালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

আলমডাঙ্গার ভুক্তভোগী নারী আসমা খাতুন বলেন, তাকে কুকুর কামড় দিয়েছে। চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তারা জানান ভ্যাকসিন নেই। কিনে দিতে হবে অথবা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গিয়ে দিতে হবে। বাধ্য হয়ে তিনি সদর হাসপাতালে এসেছেন। সদর হাসপাতালের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন রাখার দাবি জানান তিনি।

ভুক্তভোগীরা জানান, শহরের বিভিন্ন সড়কে কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাগলা কুকুরের আক্রমণে শিশুসহ নারী-পুরুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। রাতের বেলা সড়কের উপর শুয়ে থাকছে কুকুরের দল। এতে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে। কখনো কখনো পেছন থেকেও তাড়া করছে কুকুরের দল।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া এলাকার আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় গত চারদিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ৬ জন আহত হয়েছে। যাকে পাচ্ছে তাকে কামড়াচ্ছে। রাস্তায় চলার সময় তেড়ে আসছে। এতে এলাকায় রীতিমতো আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক বলেন, আইন অনুযায়ী কুকুর নিধনের অনুমতি নেই। তবে যেহেতু শহরে কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে কিছু ক্ষমতা দেওয়া আছে। যদি জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে সেক্ষেত্রে বেওয়ারিস কুকুরের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা ব্যবস্থা নিতে পারে। আমি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে পরিসংখ্যান নেব। প্রয়োজনে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্দেশনা দেব।

তিনি আরও বলেন, শুধু কুকুর না, অন্য কোনো প্রাণীর যেন ক্ষতি না হয় সেটাও আমাদের দেখতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করা উচিত। জনস্বাস্থ্যের হুমকি হলে সেগুলোর বিষয়ে বিধিবিধান প্রক্রিয়া আছে। তবে চাইলেই কুকুর মেরে ফেলা যায় না। আইনত কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর