সোমবার   ২৫ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
৮৩৩

কানে মূল বিচারকের চেয়ারে নাদিন লাবাকি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০১৯  

‘কেপারনম’ ছবিটির পরিচালক নাদিন লাবাকি এবার দক্ষিণ ফরাসি উপকূলে গিয়ে বিচারকের আসনে বসতে যাচ্ছেন। কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭২তম আসরের আঁ সার্তা রেগার্দ বিভাগের জুরি সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। ২৬শে মার্চ ই-মেইলে আয়োজকরা খবরটি নিশ্চিত করেছেন। নাদিন লাবাকির হাত ধরে আরবি ভাষাভাষি দেশগুলোর প্রথম কোনও নারী নির্মাতার চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস ও গোল্ডেন গ্লোবের বিদেশি ভাষার ছবি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। এ পর্যন্ত তিনটি ছবি পরিচালনা করেছেন তিনি। সবই প্রদর্শিত হয়েছে কানে। এর সুবাদে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এসেছে তার মুঠোয়। অভিনেত্রী আর চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তিনি পরিচিত।

কান সৈকতেই নাদিন লাবাকির সেলুলয়েড যাত্রা শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, মনে পড়ে, ফিল্মের শিক্ষার্থী হিসেবে কানে নিয়মিত আসতাম। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন উৎসবের অভিজ্ঞতা নিতে দারুণ লাগতো। 

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে টিকিটের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। মনে হয় বুঝি গতকালের ঘটনা, অথচ ১৫ বছর হয়ে গেল বুকভরা আশা নিয়ে উৎসবের সিনেফঁদাসোতে অংশগ্রহণের আবেদনপত্র পূরণ করেছিলাম। তখন হাত কাঁপছিল আমার। নাদিন লাবাকির কথায়, আজ আমি আঁ সার্তা রেগার্দ বিভাগের জুরি প্রেসিডেন্ট হয়েছি। মনে হচ্ছে, জীবনের সাফল্য কখনো কখনো স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই বিভাগে নির্বাচিত ছবি দেখে তর্কবিতর্ক, আলোচনা ও নড়েচড়ে বসার পাশাপাশি অন্য শিল্পীদের কাজে অনুপ্রেরণা খোঁজার জন্য মুখিয়ে আছি। ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতে অডিওভিজ্যুয়াল অধ্যয়নে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বিজ্ঞাপনচিত্র ও মিউজিক ভিডিও বানিয়ে হাত পাকান নাদিন লাবাকি। এগুলোর পুরস্কারও পেয়েছে। ১৫ বছর আগে কান উৎসবের সিনেফঁদাসোতে অংশ নেন তিনি। ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে তার পরিচালিত প্রথম ছবি ‘ক্যারামেল’ প্রদর্শিত হয় ২০০৭ সালে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লেবানিজ চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ভাবা হয় নাদিন লাবাকিকে। 

নারীর অবস্থা ও ধর্মীয় টানাপড়েনকে ঘিরে তার বানানো ‘হোয়্যার ডু উই গো নাউ?’ ২০১১ সালে স্থান পায় আঁ সার্তা রেগার্দে। নাদিন লাবাকি গত বছর নাদিন লাবাকির তৃতীয় ছবি ‘কেপারনম’ কান উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নেয়। এতে বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে ক্ষয়ে যাওয়া শৈশব, শরণার্থী জীবন ও সমাজের ফাটলগুলোর ওপর আলোকপাত করেন তিনি। ছবিটির সুবাদে তার হাতে ওঠে কানের জুরি প্রাইজ। পুরস্কার গ্রহণের সময় মঞ্চে তার সঙ্গে ছিল সিরীয় শরণার্থী বালক জাইন আল রাফিয়া। ৭২তম কান উৎসবের উদ্বোধন হবে আগামী ১৪ই মে। এর পরদিন শুরু হবে আঁ সার্তা রেগার্দ বিভাগের ছবির প্রদর্শনী। ১৫ই মে সন্ধ্যায় নাদিন লাবাকিসহ অন্য বিচারকরা হাজির হবেন মঞ্চে। এ বিভাগের শেষ হবে ২৪শে মে। 

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা