রোববার   ০৯ মে ২০২১   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮   ২৭ রমজান ১৪৪২

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
ঘরমুখো জনস্রোত ঠেকাতে শিমুলিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে বিজিবি মোতায়েন ভারতফেরত ৫০ যাত্রী মাগুরায় আটক ৩২৭৯ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলো সেনাবাহিনী
৫৭

করোনায় ফরিদা পারভীনের অবনতি, হাসপাতালে ভর্তি 

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২১  

করোনায় আক্রান্তের পর আজ দেশবরেণ্য লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। শ্বাসকষ্ট ও তার ফুসফুসের প্রায় ৫০ শতাংশে সংক্রমণ ছড়ানোয় সোমবার (১২ এপ্রিল) তাকে রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, জ্বর ও খুসখুসে কাশির সমস্যা গত মাসের শেষ থেকেই অনুভব করছিলেন। করোনার উপসর্গ ভেবে একাধিকবার করোনার টেস্টও করান। দুবারই ফলাফল নেগেটিভ আসে দেশবরেণ্য লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের। সর্বশেষ ৭ এপ্রিলের পরীক্ষায় তাঁর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। এর ঠিক তিন দিন আগে তাঁর স্বামী বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের করোনায় আক্রান্তের খবর জানা যায়। ফরিদা পারভীনের চিকিৎসা তাঁর বাসা থেকে চললেও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভোগার কারণে গাজী আবদুল হাকিমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া চলছিল। 

এ বিষয়ে ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম জাফর নোমানী জানান, সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট অনুযায়ী আম্মার (ফরিদা পারভীন) ফুসফুসের প্রায় ৫০ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছে। ডাক্তারের বিশেষ পরামর্শে খুব দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সাল মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

এ সময় তিনি ফরিদা পারভিনের সুস্থতা কামনায় আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধবসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। 
 
প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া থানার শাওল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। জন্ম নাটোরে হলেও বড় হয়েছেন কুষ্টিয়ায়। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত গাইতে শুরু করেন। পরবর্তীকালে ১৯৭৩ সালের দিকে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে ফরিদা পারভীন লালনসংগীতে তালিম নেন।

এরপর লালনের গান গেয়ে দেশে-বিদেশে খ্যাতি পেয়েছেন ফরিদা পারভীন। ১৯৮৭ সালে ফরিদা পারভীন সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক পেয়েছেন। ২০০৮ সালে তিনি জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কারও পেয়েছেন। সেরা প্লে-ব্যাক গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন ১৯৯৩ সালে। 

এছাড়া তার স্বামী দেশের প্রথিতযশা বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম দীর্ঘ ৫৬ বছর বাঁশি দিয়েই মন জয় করে চলেছেন দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষের। দেশ-বিদেশে তাঁর ২৫টির মতো বাঁশির অডিও অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে। 

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর